প্রতিদিনই সড়কপথে ঘাতক বাস, ট্রাক, মাইক্রো মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। এক শ্রেণীর গোঁয়ার, অশিক্ষিত, মূর্খ, মাতাল ড্রাইভারের কারণেই পথচারী বাসযাত্রীদের মৃত্যু ঘটছে। শোক সহ্য করতে না পেরে জনতা ভাঙচুর শুরু করে। কিন্তু একটা দিন পার হয়ে গেলেই সে কথা কেউই মনে রাখে না। এই তো সেদিন পল্টন থেকে বিআরটিসির বাসে ফিরছিলাম পল্লবীর দিকে। পেছনের ‘এনা’ নামের বাসটি কয়েকবার বিআরটিসি বাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়ায় বাস থামিয়ে দুই বাসের ড্রাইভারের মধ্যে বেশ কথা কাটাকাটি হলো। কে আগে যাবে, কে বেশি যাত্রী ওঠাবে এ নিয়েই ফার্মগেট থেকে এদের মধ্যে শুরু হলো প্রতিযোগিতা। দেখলাম দুই ড্রাইভারের চোখে-মুখে প্রতিশোধের আগুন। কে-কাকে কীভাবে জব্দ করবে এ নিয়ে ওরা যেন বেহুঁশ হয়ে গেলো। মিরপুর এগারো নাম্বার ছাড়িয়ে পূরবীর কাছে বাস থামতেই আরেক দৃশ্য চোখে পড়লো। বাসস্ট্যান্ডে বিআরটিসি বাস থামিয়ে যাত্রী নামানোর সময় দেখলাম পাশ কাটিয়ে ‘এনা’ বাসটি এগিয়ে যেতেই ঐ বাসের মুখোমুখি পড়লো, ঠিক তখনি পাশের লোকজন এসে প্রতিরোধ করায় অল্পের জন্য বৃদ্ধ ভদ্রলোকটি প্রাণে বেঁচে গেলেন। নচেত্ তার মৃত্যু নিশ্চিত ছিল এ কথা উপস্থিত কয়েকজন জানালেন। ঘটনাটি ঘটেছিলো ৯ ডিসেম্বর দুপুর ১ টায়। তাই বলতে হয়, বাস চালকের গোঁয়ারতুমি ও মূর্খতার কারণেই সড়কপথে চলাচলকারী মানুষের জীবনের কোনোই নিরাপত্তা নেই। এক অর্থে বাস চালকরা যেন যাত্রী জনসাধারণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে যাচ্ছে।
যাওয়ার সময় বৃদ্ধ ভদ্রলোকটি বলে গেলেন, আজ আপনারা ছিলেন বলেই আল্লাহতালা আমাকে হায়াত দারাজ করলেন। কিন্তু ঐ যে ‘এনা’ বাসটির চালককে এখন কে দেবেন শাস্তি? বেপরোয়াভাবে বাস চালানোর জন্য ওর বিরুদ্ধে কে নেবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। আমাদের দেশে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামে কত না আন্দোলন হয়, তারপরেও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না! এই যে প্রতিদিন বাসের ধাক্কায়, বাসের নিচে পড়ে কিংবা বাস দুর্ঘটনায় কত মায়ের বুক খালি হচ্ছে। এ অবস্থা আর কতকাল চলবে?
লিয়াকত হোসেন খোকন, ঢাকা।
