চট্টগ্রামে জ্বলছে তারুণ্যের অগ্নিশিখা দাবি একটাই-যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫৩
নগরীর জামালখান সড়কে প্রেসক্লাব চত্বরকে ঘিরে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে চলমান গণজাগরণ কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনে শ্লোগান উঠেছে ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মা/পাকিস্তানে ফিরে যা’, ‘ফাঁসি ফাঁসি চাই/ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই’। গতকাল সোমবারের কর্মসূচি শুরু হয় কর্মসূচির অন্যতম উদ্যোক্তা শরিফ চৌহানের সামপ্রদায়িকতা বিরোধী বক্তব্যের মধ্যদিয়ে। বিকাল ৩টায় বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা সমাবেশস্থলে এসে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল করে তোলে পুরো চত্বর। বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানী তুমুল করতালির মধ্যে গণজাগরণ চত্বরে এসে তারুণ্যের এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে তার সংহতির কথা ঘোষণা করেন। এদিকে গণজাগরণ সমাবেশে গতকাল যোগ দেয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। চারু শিল্পীরা যুদ্ধাপরাধীদের একটি ফাঁসির মঞ্চ স্থাপন করেছে জামালখান চত্বরে। তারা একাত্তরের চেতনা ধারণকারী পোস্টার ব্যানার এবং যুদ্ধাপরাধীদের ভয়াল দর্শন প্রতিকৃতি অংকন করে গণজাগরণ চত্বরের বিভিন্ন স্থানে ঝুলিয়েছে। শরিফ চৌহান গতকাল ইত্তেফাককে জানান, সেখানে ইতিপূর্বে লাগানো বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক পোস্টার ব্যানার গতকালই অপসারণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, গণজাগরণ কর্মসূচির উদ্যোক্তাদের মধ্যে আরো কাজ করে যাচ্ছেন নারী নেত্রী নূরজাহান ভুঁইয়া, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস, পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের নেতা একেএম সিরাজুল ইসলাম ও সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার। গণজাগরণ চত্বরে গতকালও উদ্দীপনামূলক গীতি আলেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগান, গণসঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি, ছড়া আবৃত্তিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশ নেয় তরুণ সংস্কৃতি কর্মীরা। সন্ধ্যার আগে প্রেসক্লাব অভিমুখে নারী শিশুসহ আপামর জনসাধারণের ঢল নামে। সেন্ট মেরিস স্কুল থেকে চেরাগী পাহাড় মোমিন রোড পর্যন্ত গতকালও মানুষের তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। তরুণ-তরুণীরা পুরো এলাকায় একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বাধীনতার প্রদীপ শিখা প্রজ্বলন করে।