জনতা সগরে জেগেছে উর্মি

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫৪
শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর আজ গোটা বাংলাদেশের ঠিকানা। এক শ্রেণির গৃধ্নু শ্বাপদের উন্মত্ত স্পর্ধা ও ঘৃণ্য আস্ফাালনে বাংলাদেশ পঁচাত্তরের পরে তার ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছিল। স্বজন হারানো পরিবারগুলোর মর্মন্তুদ বেদনার্ত দীর্ঘশ্বাস এই প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের হূদয়কন্দরে মহাসমুদ্রের মহাগর্জন হয়ে সুপ্ত ছিল যেন এতকাল। আজ আবার একাত্তরের বাংলাদেশ জেগেছে। শাহবাগ চত্বরের বুঝি সকাল-দুপুর-বিকাল-সন্ধ্যা-রাত বলে কিছু নেই। শাহবাগকে ঘিরে চতুর্দিকে অগণিত মানুষের গগনবিদারী শ্লোগানে শ্লোগানে ভূ-তল কেঁপে উঠছে। এ কোন বাংলাদেশ? বিশ্ববাসী আজ অবাক নেত্রে এ কোন বাংলাদেশকে প্রত্যক্ষ করছে? জনতার স্রোত যেন এখানে আগ্নেয়গিরির গলিত লাভাস্রোত। আবালবৃদ্ধবনিতার মুষ্টিবদ্ধ হাত আকাশের সমস্ত তারাকে আজ ধরার ধুলায় নামিয়ে এনে আলোকিত পথ রচনার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করছে। ‘ক’ তে কাদের মোল্লা-তুই রাজাকার- তুই রাজাকার, ‘জামায়াতে ইসলাম- মেইড ইন পাকিস্তান’, ‘তোমার আমার ঠিকানা- পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘জয় বাংলা’ এমনি ধারার দারুণ আবেদন সৃষ্টিকারী শ্লোগান তাদের কণ্ঠে। একাত্তরের মার্চের উত্তাল দিনগুলি যাদের স্মরণে আছে তারা একাত্তরে ফিরে গেছেন স্মৃতির সড়ক বেয়ে। প্রজন্ম চত্বর অভিধা শাহবাগকে নতুন গৌরব ও মহিমা এনে দিয়েছে। লাখো তরুণ তরুণীর দৃপ্ত পদভারে এবং তাদের কণ্ঠে মুহুর্মুহু উচ্চারিত গগনবিদারী শ্লোগানে এ চত্বর এখন সদামুখর। গতকাল সোমবার সেই ভোর থেকেই সমুদ্রের জোয়ারের মতো নানা ধর্ম শ্রেণি পেশার মানুষ প্রজন্ম চত্বরে মিছিল করে এগিয়ে গেছে তাদের প্রাণের আকুতি প্রকাশ করতে এবং বাঙালি জাতিসত্তার এই নবরূপের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানাতে। ইউনিফর্ম পরিহিত বিভিন্ন স্কুল-কলেজের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা বাংলাদেশের পতাকা হাতে রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে মিছিল সহকারে স্রোতের মতো ধাবিত হয়েছে প্রজন্ম চত্বরে। এ চলার যেন বিরাম নেই, নেই কোন শেষ। রুদ্ধ আবেগ বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো বয়ে গেছে—‘এ তরী বাইতে হবে খেয়া পারে নিতেই হবে’ এই প্রত্যয়ে। সে এক অভাবিত দৃশ্য! আলেম মাশায়েখদের এক মিছিল দেশের অন্যতম প্রধান আলেম শোলাকিয়ার ঈদের জামাতের ইমাম মওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদের নেতৃত্বে প্রজন্ম চত্বরে গিয়ে এই আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে কাল দুপুরে। তারা জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ ও রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে ফেটে পড়েন। এক নতুন ইতিহাস নির্মাণ প্রক্রিয়ায় শামিল সকলে।