সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে আগামী ১১ মার্চ ২৪ ঘণ্টার জন্য দেশের সকল গণমাধ্যমে সাংবাদিকরা কলম বিরতি পালন করবেন। ঐ দিন ভোর ৬টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত দেশের সকল সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদ সংস্থা, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ও রেডিওতে সংবাদ প্রচার-প্রকাশ বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্তিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক মহাসমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী। সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচারসহ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার দাবিতে যৌথভাবে সাংবাদিক মহাসমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।
সভাপতির বক্তব্যে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সাগর-রুনি’র হত্যার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করলে তিনি আমাদের বলেছিলেন, ‘খুনিরা যতোই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ আজ সাংবাদিকরা জানতে চায়, সেই ব্যক্তিটি কে যাকে এখনও আইনের আওতায় আনা গেল না। র্যাব যদি তাদের তদন্ত শেষ করতে না পারে, তবে তাদের একদিন সাংবাদিকদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। বিএফইউজে’র একাংশের মহাসচিব আব্দুল জলিল ভুঁইয়া বলেন, সাংবাদিকরা তাদের অধিকার নিয়ে আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন। সাংবাদিকদের দাবি মেনে নেয়ার এখনই সময়। বিএফইউজে’র অপর অংশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেন, সরকার শুধু আশ্বাস দিয়ে একটি বছর পার করেছে। সাংবাদিক সমাজ কর্মসূচি দিলেই সরকার আশ্বাসের বাণী শোনায়। সাংবাদিকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। বিএফইউজে’র অপর অংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিচারের নামে নাটক করছেন। সাংবাদিক সমাজের আন্দোলনের মাধ্যমে তাকেও বিদায় নিতে হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, বর্তমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে নানা সন্দেহ ও রহস্য তৈরি হয়েছে। আদৌ এ বিচার হবে কি না তা আমরা এখনও নিশ্চিত না।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, এখনও সময় আছে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত খুনিদের আইনের আওতায় আনুন। ডিইউজে’র একাংশের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অতীত থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন না। বাবরের মতো ‘জজ মিয়া’ নাটক করে মানুষকে খাওয়ানো যাবে না। ডিইউজে’র অপর অংশের সভাপতি আব্দুস শহিদ বলেন, প্রশাসনের তদন্ত নিয়ে আজ প্রশ্ন উঠেছে। ডিআরইউ’র সভাপতি শাহেদ চৌধুরী বলেন, সাগর-রুনি হত্যার বিচারের আন্দোলনকে বানচাল করতে নানা যড়যন্ত্র চলছে। ডিইউজে’র একাংশের সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের নামে সরকার প্রহসনের নাটক সাজাচ্ছে। এছাড়া বক্তব্য দেন ডিইউজে’র অপর অংশের সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসেন, ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিআরইউ সমবায় সমিতির সভাপতি মাহমুদুর রহমান খোকন, রিপোর্টার্স এগেইন্সট করাপশন (র্যাক) সভাপতি মিজান মালিক, নারী সাংবাদিক কেন্দে র সভাপতি নাসিমুন আরা হক প্রমুূখ।
