এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাতে শিক্ষক বলি

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫৫
ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় নকল করতে না দেয়ায় গতকাল সোমবার ভোরে চুনকুটিয়া গার্লস স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে এক পরীক্ষার্থী। এসএসসি পরীক্ষার্থী রিয়াদ হোসেন পলাতক। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শত শত সাধারন লোক হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-মাওয়া সড়কের লিংকরোডে বিক্ষোভ মিছিল ও রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা-মাওয়া সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এসময় পুলিশ বাধা দিলে শিক্ষার্থীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রাস্তায় অবস্থান করছিলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শত শত সাধারণ লোক। কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা থেকে চলে যায়। ঘটনাস্থলে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন, কেরাণীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবুল মিয়া, কেরাণীগঞ্জ ,নবাবগঞ্জ সার্কেল এএসপি ডা. শহিদুল ইসলাম। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে আসেন। তিনি নিহতের স্ত্রী লাকি বেগমকে সরকারি চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। ঘাতক রিয়াদ হোসেনের বাসায় বিক্ষোভকারীরা ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। রিয়াদের পরিবার বাসায় তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। নিহত শিক্ষক গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়ার পরিবারে শোকের ছায়া। স্ত্রী লাকি বেগম বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। নিহতের দুই শিশুসন্তান রাজ ও রাজীব বাবার কি হয়েছে বুঝতে পারেনি। মা লাকি বেগমের কান্নায় অবুঝ দুই শিশুসন্তান পাশেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা জানেনা তাদের বাবা আর ফিরে আসবে না। রবিবার এসএসসি অংক পরীক্ষা ছিল। ওরিয়েন্ট হাইস্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থী রিয়াদ হোসেন অংক পরীক্ষা দিচ্ছিল। পরীক্ষা হলে চুনকুটিয়া গার্লস স্কুলের ইংরেজির সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা ডিউটি করছিলেন। পরীক্ষার্থী রিয়াদ হোসেন নকল করার চেষ্টা করে। শিক্ষক গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া নকল করতে না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয় রিয়াদ হোসেন। সে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। রিয়াদ হোসেন পরীক্ষা না দিয়ে হল থেকে বেড়িয়ে যায়। শিক্ষক গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া চুনকুটিয়া পূর্বপাড়া ‘ফাতেমা ভিলা’র তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকেন। চুনকুটিয়া গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক কেএম ইলিয়াস হোসেন জানান, অংক পরীক্ষায় নকল করার চেষ্টা চালায় রিয়াদ। পরীক্ষা শুরু থেকে সে শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচারণ করে। ইংরেজী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা নকল করতে বাধা দিলে তার উপড় চড়াও হয়। স্কুলের সকল শিক্ষক এসে মীমাংসা করে দেন। রিয়াদ তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়। স্ত্রী লাকি বেগম জানান, শুভাঢ্যা ইউনিয়নের তেলঘাট এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে রিয়াদ হোসেন গতকাল ভোরে তাদের বাসার সামনে আসে। এসময় স্যার বলে গেটে ধাক্কাধাক্কি করে। গেট খুললে রিয়াদ বাসার ভিতর প্রবেশ করে। বসতে বললে বসতে চায়নি। গোলাম মোস্তফা সামনে গেলে হঠাত্ একটি ধারালো ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করে। রিয়াদ দৌড়ে পালিয়ে যায়। ডাকচিত্কারে লোকজন মিটফোর্ড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা দেয় গোলাম মোস্তফাকে। লাকি বেগম জানান, সোমবার পরীক্ষা ছিল না। সারাদিন বাসায় থাকবে বলে জানায়ন।