শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাণের টানে স্মৃতিতে নোঙর

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫১
শুরুটা সেই ১৯৯৩ সালে। চিরায়ত পাঠগন্ডিতে না থেকে দুষ্টুমি কিংবা খুনসুটিতে ভরিয়ে রাখতেন ক্যাম্পাস। এক সময়ের পাঠযজ্ঞ ও স্মৃতিময় মধুর আজ বিশ বছরের অতীত। এর ফাঁকে মান্না দে’র দরদ কণ্ঠে গাওয়া ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা’ গানটি নাড়া দিয়েছে বহুবার। তবে প্রকৃতিভুলা মন কাজ আর ঘরবাচ্চা নিয়ে ব্যস্ত। ভুলোমন স্মৃতিকে রোমন্থন করার খানিকটাও অবসর পায় না। তবে সেই গভীর আবেগ আর প্রাণের টানেই পুনরায় নোঙর ফেললেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকর্ম বিভাগের ১৫টি ব্যাচের প্রাক্তন সহস াধিক ছাত্র-ছাত্রী। ব্যস্ততাকে মাড়িয়ে আবারো স্মৃতিময় মধুর অতীতে একাকার হন গুলজার আড্ডায়। স্মৃতির শামিয়ানার নিচে দুটো আলাপনের জন্য ছিল এ মিলন। ‘প্রাণের টানে স্মৃতিতে নোঙর’ স্লোগানে গত শুক্রবার ও শনিবার অনুষ্ঠিত হয় বিভাগের প্রথম পুনর্মিলনী উত্সব। এ উপলক্ষে শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় একাডেমিক ভবন-ডি’ থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এতে বিভাগের শিক্ষক, নবীন-প্রবীণ-শিক্ষার্থীরা ছাড়াও অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার। শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীরা নেঁচে গেয়ে ক্যাম্পাস মাতিয়ে তোলেন। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘মানুষের জীবনের পেশাগত উপান্তকাল আছে, আমার উপান্তকাল এখন শেষ পর্যায়ে। শেষ বেলায় এ ধরনের অনুষ্ঠানে আসতে পেরে তিনি শুরুতেই বিভাগের সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। উপাচার্য অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমি ইতিমধ্যে ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছি, তবে শাবির সমাজকর্ম বিভাগের মত সুশৃঙ্খল পরিবেশ পাইনি। শেষ জীবনে এ ধরনের অনুষ্ঠান আমাকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখবে। কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, আমাকে দায়িত্বকালে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিলম্ব, অনিয়মের অভিযোগ শুনতে হয়েছে, তবে আজ পর্যন্ত সমাজকর্ম বিভাগের কোনো অভিযোগ পাইনি। তিনি বলেন, এ বিভাগ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আ.ক.ম মাহবুবুজ্জামান বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকর্ম বিভাগের নিজস্ব ঐতিহ্যে আছে, যার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ক্রীড়ায় এ বিভাগ নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। শাবির একমাত্র শিক্ষক এ বিভাগেরই প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অধ্যাপক এম হাবিবুর রহমান উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। আমাদের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দূর দূরান্ত থেকে শিকড়ের টানে, প্রাণের টানে তাদের নোঙরের দিকে ফিরে এসেছে। আর ঢাবি, রাবি ও জবির তুলনায় অল্প সময়ের ব্যবধানে এতো সুন্দর পুনর্মিলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। সহযোগী অধ্যাপক আমেনা পারভীন বলেন, এত বড় আয়োজনে আমার খুব ভালো লাগছে। অনন্ত সাতজন মেধাবী শিক্ষার্থী আজ আমাদের সহকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এতে আমি গর্বিত। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্যে দেন বিভাগের সাবেক শিক্ষকদের মধ্যে রাবি সমাজকর্মের অধ্যাপক ড. সাদেকুল আরেফীন মাতিন, জবি সমাজকর্মের প্রধান অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন, জবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোস্তাফা হাসান। বক্তারা বিভাগের নানা ঐতিহ্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অধ্যাপক এম হাবিবুর রহমানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।