যে দূষণ নিয়ে কেউ ভাবে না

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ২১:৩৮

সাধন সরকার

 

বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরের তালিকায় বহু আগেই স্থান করে নিয়েছে রাজধানী ঢাকা। শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, পানিদূষণ—ঢাকা শহরের বিভিন্ন দূষণ নিয়ন্ত্রণে এমনিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার ওপর আবার দৃশ্যদূষণের যন্ত্রণা! চোখের সামনে আমরা যা দেখি সেটাই দৃশ্য বলে ধরে নেওয়া যায়—যা দেখে মস্তিষ্কে স্বস্তির উদ্রেক হয়, চোখের আরাম হয় তা দর্শনীয়ও বটে। আর যা দেখে অস্বস্তি লাগে, চোখের আরাম নষ্ট হয়—তা দূষণীয়। ঢাকা শহরে যাতায়াতের সময় চারপাশে দেখা যায় ব্যানার, পোস্টার, দেয়াললিখন, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, তারের জঞ্জাল আর আবর্জনা। বাসাবাড়ির দেয়াল, সরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি, ল্যাম্পপোস্ট, ঐতিহাসিক স্থাপনার দেয়াল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়াল, রাস্তার পাশে ব্যানার, পোস্টার আর দেয়াললিখনে ছেয়ে গেছে চারপাশ। এমনকি গাছও রেহাই পাচ্ছে না। গাছেও পেরেক মেরে লাগানো হয়েছে বিলবোর্ড, প্ল্যাকার্ড। কোনো দেয়ালই বাদ যাচ্ছে না দৃশ্যদূষণের কবল থেকে। কোথাও কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন, কোথাও হারানো বিজ্ঞপ্তি, রুমমেট আবশ্যক, রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পোস্টার, দোয়া চেয়ে পোস্টার, শুভেচ্ছাবার্তা, চাকরির বিজ্ঞাপন, বাসা ভাড়া, শোক সংবাদসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যানার-পোস্টারের ছড়াছড়ি।

যে উদ্দেশ্যে ব্যানার-পোস্টার দেয়ালে সাঁটানো হচ্ছে সে উদ্দেশ্য বা কাজ শেষ হয়ে গেলেও ঐ ব্যানার-পোস্টার সরানো হচ্ছে না, মাসের পর মাস ওভাবেই পড়ে থাকছে। এই পোস্টারের ওপর আবার নতুন পোস্টার লাগানো হচ্ছে। বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণে সিটি করপোরেশন থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও তা নিয়মিত না হওয়ার কারণে ঢাকা শহরের সৌন্দর্য রক্ষার উদ্যোগ সফল হয় না! ঢাকা শহরে চলার সময় মাথার ওপরে, চারপাশে থাকে তারের জঞ্জাল। বাদুরঝোলা কুণ্ডলী পেঁচানো তারের লাইন কোথায় শেষ হয়েছে কে জানে! বিদ্যুতের তার, ডিশ লাইনের তার, ইন্টারনেটের তার মিলিমিশে একাকার। একসময় এসব তার মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল। দুই সিটি করপোরেশনের সড়কগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে আবর্জনা, কাঁচাবাজারের উচ্ছিষ্ট। কোথাও রাস্তার ওপরেই রাখা ময়লার কন্টেইনার। এক তথ্য মতে, ঢাকা শহরে প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয় তার প্রায় ৭০-৮০ ভাগ ময়লা-আবর্জনা দুই সিটি করপোরেশন সংগ্রহ করে। বাকিটা রাস্তা ও ড্রেনেই পড়ে থাকে! এছাড়া ব্যস্ত সড়কের কোথাও সুয়ারেজের পানি উপচে দুর্গন্ধ ছড়ালেও তা কারো মাথাব্যথার কারণ হয় না!

দৃশ্যদূষণের কারণে অনেক সৌন্দর্য দৃষ্টিসীমা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এক চিলতে জায়গাও যেন বাদ যাচ্ছে না দৃশ্যদূষণের কবল থেকে! কোনটি দৃষ্টিনন্দন আর কোনটি দৃষ্টিকটু তা ভাবার সময় এসেছে। অন্যান্য দূষণের মতোই দৃশ্যদূষণও কম ক্ষতিকর নয়। প্রত্নতত্ত্ব আইন অনুযায়ী, ঐতিহাসিক বা পুরাকীর্তি স্থাপনায় পোস্টার লাগানো দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ব্যাপারে সচেতনতা জরুরি। ঢাকা শহরের সৌন্দর্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। মূলকথা হলো, দৃশ্যদূষণ থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে হবে।     

ঢাকা