সরকারি ব্রজমোহন কলেজের (বিএম) অধ্যক্ষ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার যোগ দিতে এসে ছাত্রলীগ নেতাদের হামলার শিকার হয়েছেন প্রফেসর শংকর চন্দ দত্ত। এ সময় কলেজে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র মহড়ায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায়। অধ্যক্ষ কলেজের প্রথম গেটে পৌঁছার আগেই ছাত্রলীগের একাংশ (বাকসু পরিচালনার দায়িত্বে থাকা) কর্মপরিষদ নেতারা তাকে মারধর করে। সেখান থেকে অধ্যক্ষকে ছাত্রলীগ নেতারা জোর করে মোটর সাইকেলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেদম মারধর করা হয়। এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে অধ্যক্ষ শংকর দত্ত সাংবাদিকদের জানান, তিনি নিরাপদ স্থানে চিকিত্সাধীন আছেন।
গত ৩০ জানুয়ারি এ কলেজের অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাসকে খুলনার বিএল কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান হিসেবে বদলি করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় চাখার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শংকর চন্দ দত্তকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ বদলির আদেশের খবর এখানে পৌঁছামাত্রই ছাত্রলীগের একাংশ প্রফেসর ননী গোপালের বদলির আদেশ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ১৪ দিন যাবত্ ছাত্রলীগের একাংশ (বাকসু পরিচালনার দায়িত্বে থাকা) কর্মপরিষদ নেতাদের আন্দোলনে কলেজ অচল থাকলেও প্রফেসর ননী গোপাল ৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর নজরুল ইসলামের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। অধ্যক্ষ শংকর দত্ত যাতে এ কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করতে না পারেন তার দাবিতে ছাত্রলীগের আন্দোলন অব্যাহত ছিল। ননী গোপাল দাসের বদলি আদেশ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে অচল ক্যাম্পাসে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নতুন অধ্যক্ষ প্রফেসর শংকর চন্দ দত্ত দায়িত্ব গ্রহণ করতে গেলে কলেজের প্রথম গেটে পৌঁছার আগেই ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা তাকে বেদম মারধর করে।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ শংকর দত্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কলেজে যোগদানের বিষয়ে আগের রাতেই তিনি নিরাপত্তা চেয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত আবেদন করেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও মোবাইল ফোনে অবহিত করেন বলে অধ্যক্ষ জানান। শংকর দত্ত অভিযোগ করেন, রহস্যজনক কারণে প্রশাসন থেকে নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি হামলার শিকার হয়েছেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষের উপর হামলার সময় সেখানে কোন পুলিশ দেখা যায়নি। বরং ক্যাম্পাসে দু’টি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সশস্ত্র অবস্থান গ্রহণ করে।
অধ্যক্ষকে মারধরের ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতাদের কাছ থেকে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। কলেজ ছাত্রলীগ জানিয়েছে কর্মপরিষদের নেতারা এ হামলার সাথে জড়িত। কর্মপরিষদের নেতারা জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে অধ্যক্ষ শংকর দত্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে গেছেন। তাকে মারধরের কথা কর্মপরিষদের নেতারা অস্বীকার করেন।
জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম ইত্তেফাককে জানান, অধ্যক্ষ শংকর দত্ত আগের রাতে যোগদানের বিষয়টি তাকে অবহিত করেছিলেন। তবে মেট্রোপলিটন এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের। এর বাইরে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, অধ্যক্ষ থানায় লিখিত কোন অভিযোগ দেননি। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন ছিল। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও অধ্যক্ষকে পাওয়া যায়নি।
