ম্যাকাও ব্লু-গোল্ড পাখি প্রিন্স ও প্রিন্সেসকে আলাদা করার রায় ছিল অবৈধ। মঙ্গলবার মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রিন্সকে উদ্ধারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বেআইনি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মো. জহুরুল হক রিভিশন আবেদনের শুনানিশেষে এ আদেশ দেন।
আদেশে বলা হয়, ফৌজদারী কার্যবিধির ১০০ ধারায় কোন অবরুদ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য তল্লাশি পরোয়ানা দেয়ার বিধান রয়েছে। পাখি যেহেতু ব্যক্তির পর্যায়ে পড়ে না তাই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহে এলিদ মাঈনুল আমিনের পাখি উদ্ধারে তল্লাশি পরোয়ানা দেয়ার আদেশ ছিল বেআইনী।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশকে বেআইনী ঘোষণা করলেও রিভিশনকারীকে পাখি ফেরত দেয়ার বিষয়ে কোন আদেশ দেননি দায়রা বিচারক। প্রিন্সেসের পক্ষের জেষ্ঠ্য আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান জানান, যেহেতু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বেআইনী ঘোষণা করা হয়েছে তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রিন্সকে তার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার কথা।
এদিকে প্রিন্সের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপন জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করা হলেও যেহেতু পাখি ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে আদালত কোন আদেশ দেননি, তাই প্রিন্স তার মালিকের কাছেই থাকবে।
মহানগর দায়রা জজ রিভিশন মামলার শুনানির আগে উভয়পক্ষকে মীমাংসার তাগিদ দিলেও প্রিন্সের মালিকের অসম্মতির কারণে তা আর হয়নি। শুনানিকালে প্রিন্সেসের আরেক আইনজীবী বরুন কুমার বিশ্বাস ও প্রিন্সেসের মালিক ডা. আবদুল ওয়াদুদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুর প্রবাসী মোহাম্মদ ইকরাম সেলিম ১৯৯৭ সালে সিঙ্গাপুর থেকে একটি ব্ল-গোল্ড ম্যাকাও পাখি আনেন। তখন ওর বয়স ছিল তিন মাস। ইস্কাটনের বাড়ি বিক্রি করে বারিধারায় চলে যায় সেলিমের পরিবার। ফলে তার পরিচিত হাতিরপুলে আবদুল ওয়াদুদের কাছে ২০১০ সালে পাখিটি লালন-পালনের অনুরোধ জানালে তিনি দায়িত্ব নেন। গত ১ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে গত ৩ জানুয়ারি কলাবাগান থানা প্রিন্সকে উদ্ধার করে ইকরাম সেলিমকে বুঝিয়ে দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বেআইনী সেই আদেশের পর থেকে ওরা আলাদা।
