কমলগঞ্জে হ্রাস পাচ্ছে প্রাকৃতিক জলাধার!

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ২১:৪২

মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলায় অপরিকল্পিতভাবে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নানা কারণে মাছের গ্রামীণ উত্সস্থল পুকুর-ডোবা-জলাশয়গুলো হারিয়ে যাচ্ছে। মাছ চাষে, গৃহস্থালির ধোয়া-মোছাসহ বিভিন্ন কারণে এক সময়ে পুকুরগুলো গুরুত্ব পেত। তবে সময়ের পরিক্রমায় পুকুর-খাল-ডোবার অনেক স্থানই বিলীন হয়ে গেছে।

উপজেলা মত্স্য অফিস সূত্র জানায়, নব্বইয়ের দশক পরবর্তী সময়ে উপজেলার নদী, হাওর, খাল-বিল, জলাশয় ও প্রাচীনতম পুকুরের এক চতুর্থাংশ বিলীন হয়ে গেছে। এক সময়ে এ এলাকায় মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিতি শোনা গেলেও নব্বই-পরবর্তী সময়ে কমলগঞ্জে হাওর, বিল, জলাশয়, নদী অনেকটাই ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে দীর্ঘমেয়াদি খরা, বর্ষা মওসুমে ভারী বর্ষণ, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। অল্প বৃষ্টিতেই পাহাড়ি ঢলে বন্যা, পাহাড় ধস, ভূমি ফাটলসহ মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে গোটা এলাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বাসাবাড়িতে কয়েক দশক আগেও অজস্র পুকুর ছিল। এখন এদের অনেকগুলোই নেই। গ্রামগঞ্জের শাখা খালগুলো জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। পানি শুকিয়ে গেলে উত্সবমুখর পরিবেশে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ আহরণে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করেছে। মাছের আহরণ পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রির মধ্যদিয়েও আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা যেত। বর্তমান সময়ে সে দৃশ্য সচরাচর চোখে পড়ে না। খাল-বিল, নদী-নালা ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে কোনো কোনোটি অস্তিত্বহীন হয়ে আছে। কোনোটি থাকলেও তা অর্ধমৃত। ফলে গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভারসাম্যতা বিনষ্ট হয়েই চলেছে। অপরিকল্পিত গৃহায়নের কারণে খাল-বিলগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় দেশি মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামে খাল-বিল ছাড়াও অনেকের বাড়িতে পুকুর-ডোবা থাকলেও তা সংস্কারহীন পড়ে আছে। একইভাবে ডোবা, জলাশয়, খালগুলোও ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

পতনঊষারের কৃষক ফারুক মিয়া ও শেরওয়ান আলী বলেন, আট-দশ বছর আগেও পুকুর ছাড়াও বর্ষা মৌসুমে লাঘাটা নদী, মকাবিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে খাঁচাভর্তি পুঁটি, শিং, মাগুর, কই, টেংরা, গুতুম, মকা, ভেড়াসহ দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। পুকুর, নদী-নালা, খাল-বিল ও ডোবায় প্রচুর মাছ মনে বাড়তি আনন্দ জোগাতো। এখন বর্ষায় বন্যার পরও আর সে ধরনের মাছ পাওয়া যায় না।

স্কুলশিক্ষক মিছবাউর রহমান বলেন, স্থানীয় পুকুর ও ডোবাগুলোও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে মাছের উত্পাদন হ্রাস পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এসব পুকুর ও ডোবায় মাছ চাষাবাদ করেও একদিকে জীবিকা নির্বাহ, অন্যদিকে মাছের চাহিদা পূরণ ও আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা যেত।

কমলগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মত্স্য কর্মকর্তা মো. আসাদ উল্ল্যা বলেন, পুকুর-ডোবা-খাল কিছুটা ভরাট হলেও কোনো কোনো স্থানে নতুনভাবে পুকুর খনন হচ্ছে। তাছাড়া সরকারি উদ্যোগে নদী, খাল, বিল ও জলাশয় খনন চলছে। এগুলোর মধ্য দিয়ে মাছের উত্পাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।