দেশের প্রথম মহিলা প্যারাট্রুপার জান্নাতুল ফেরদৌস

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৪৩
ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌস বাংলাদেশের প্রথম নারী প্যারাট্রুপার (নারীছত্রী সেনা) হলেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ২০ মিনিটে সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসের পানিছড়া এলাকায় তিনি বিমান বাহিনীর একটি বিমান প্যারাসুটের মাধ্যমে সফলভাবে মাটিতে অবতরণ করেন। এর মধ্যে দিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস দেশের প্রথম মহিলা প্যারাট্রুপার হবার গৌরব অর্জন করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম বিমান বাহিনীর বিমান থেকে এক হাজার মিটার উচ্চতা থেকে প্রতিসেকেন্ডে ৫ মিটার বেগে সফলভাবে ভূমিতে অবতরণ করেন। তিনি রাত্রিবেলাসহ সর্বোমোট ৬টি জাম্প এর মধ্যে সম্পন্ন করেন। এ অভিজ্ঞতার কথা তিনি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, বিস্ময়কর ও খুব মজা লাগছে। তার মতে এ কাজে সামরিক বাহিনীর অন্য নারীদেরকেও এগিয়ে আসা উচিত। এটি খুব সাহসিকতাপূর্ণ কাজ। প্রথমে ভয় করছিল। প্রশিক্ষণ শেষে বিষয়টি সাধারণ মনে হয়েছে। উপস্থিত সবাই জান্নাতুল ফেরদৌসের সফলতাকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান। ছত্রীসেনা দলের প্রধান প্রশিক্ষক লেঃ কর্নেল একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ছত্রীসেনা হতে সামরিক বাহিনীতে নারীর অংশ গ্রহণের পথ উন্মুক্ত রয়েছে। এতদিন কোন নারী ছত্রীসেনা হতে সাহস দেখাননি। গতকাল জালালাবাদ সেনানিবাসের অনুষ্ঠানে স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি এন্ড ট্যাকটিক্স (এসআইএন্ডটি) এর কমান্ড্যান্ট বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাহবুবুল হক ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌসসহ বেসিক প্যারাকোর্সে উত্তীর্ণ সদস্যদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেসিক প্যারা ‘ইনসিগনিয়া’ প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ যুদ্ধ শাখার প্রধান প্রশিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, প্রশিক্ষণার্থীদের নিকটাত্মীয় ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। জান্নাতুল ফেরদৌসের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। চার ভাই- বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। পিতা ব্যবসায়ি ও মা গৃহিণী। বর্তমানে মিলিটারি একাডেমির কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ৫৯তম ব্যাচের ক্যাডেট হিসেবে সেনাবাহিনীতে যাত্রা শুরু করেন।