বিশ্বজুড়ে সব দেশেই কাজের সুযোগ রয়েছে, এমন পেশার সংখ্যা খুব বেশি নয়। যে কয়েকটি পেশায় এই সুযোগ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার। এয়ারলাইন্স খাতে এ ধরনের ইঞ্জিনিয়ারের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইন্স শিল্পের প্রসারের সাথে এর চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েই চলেছে। আর বাংলাদেশ থেকেও এই শিল্পখাতে ব্যাপকসংখ্যক নির্বাহী যোগ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
উড়োজাহাজের ফ্লাইট ডাইনামিক্স কোয়ালিটি, স্ট্যাবিলিটি, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম নিয়েই এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিং। এয়ারক্রাফটের নতুন ডিজাইন উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ, এয়ারফ্রেম ইঞ্জিন তৈরি, আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতির সংযোগ স্থাপন, মেরামত, ফ্লাইট টেস্ট প্রোগ্রাম, টেক অফ ডিসট্যান্স, রেট অব ক্লইম্ব, সিল স্পিড, ম্যানুভারিলিটি অ্যান্ড ল্যান্ডিং ক্যাপাসিটি, জ্বালানি দূষণ কমানো, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়, সেফটি সিস্টেমসসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে কাজ করে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক্স সিস্টেম, অ্যাকসেলারোমিটার, গাইরোস্কোপ, ফ্লাইট ইনস্ট্রুমেন্টস সেন্সর, অ্যাকুরেটর, কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন, ডিজিটাল অ্যান্ড এনালগ এভিয়নিক্স কম্পোনেন্ট প্রভৃতি নিয়ে কাজ করতে হয় তাদের। উড়োজাহাজের যাত্রী এবং পাইলটদের জীবন এবং তাদের নিরাপদে পৌঁছানোর অনেক কিছুই নির্ভর করে একজন এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারদের উপর। অ্যারোপ্লেন উড্ডয়নের আগে এর সব সিস্টেম ঠিক আছে কি না তা সম্পর্কে পাইলটদের সব ধরনের তথ্যপত্র দিয়ে থাকে এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার। ০১৯৩৭১৮২৪৭০ নম্বরে ফোন করে এই সংক্রান্ত বিষয়ে আরও তথ্য জেনে নিতে পারবেন।
এসএসসি/এইচএসসি, এ লেভেল/ও লেভেল পাশ করে এই পেশায় আসা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে। এই পেশায় আসতে রয়েছে এনডি/এইচএনডি ইন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি ইন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভৃতি। হায়ার ন্যাশনাল ডিপ্লোমা ইন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে শিক্ষার্থীরা চাইলেই ইংল্যান্ডের কভেন্টি, কিংসস্টোন, স্যালফোর্ড, ক্রেইনফিল্ড প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের যেকোনো দেশের এডেক্সেল অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্ত বর্ষে ভর্তি হয়ে বিইজি ইন অ্যারোস্পেস সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারে। বাংলাদেশে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনায় শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজি যেখান থেকে এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আমেরিকা, ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাকরি করছে। এখানে রয়েছে পড়ালেখার উন্নত পরিবেশ। ব্যবহারিক কাজের দিকে এখানে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়। যোগাযোগ: প্রধান ক্যাম্পাস, সেক্টর-১১, রোড-২, বাড়ী-১৪, উত্তরা, ঢাকা।
