সুন্দরগঞ্জে বিদ্যালয়ের লেখাপড়া চলছে মাঠে

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:০৬
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মহিষবান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বসার বেঞ্চ না থাকায় মাঠে বসে লেখাপড়া করছে শিশুরা। কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি ও কখনো শীত উপেক্ষা করে লেখাপড়া করতে এসে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে এসব কোমলমতি শিশু । দেখার যেন কেউ নেই? সরেজমিন দেখা যায়, মহিষবান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বেলকা ইউনিয়নের চরাঞ্চল নবাবগঞ্জ গ্রামে অবস্থিত। দীর্ঘদিন থেকে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষা ভেস্তে যেতে বসেছে। বিদ্যালয়টি চর এলাকায় হলেও ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। বিদ্যালয়টির টিনশেড ঘর থাকলেও তার জরাজীর্ণ অবস্থা। কোন শ্রেণিকক্ষেই চেয়ার-টেবিল নেই। শিক্ষার্থীদের বসার জন্য রয়েছে মাত্র ১২ জোড়া বেঞ্চ। যে দু’টি ব্লাকবোর্ড রয়েছে তাও ব্যবহারযোগ্য নয়। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখার কোন আলমারি নেই। নেই কোন ল্যাট্রিন। প্রকৃতির ডাকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতিবেশীদের বাড়িতে যান। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এ বিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে ২৪ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং পাসের হার শতভাগ। দুই শিফটে লেখাপড়া করানো হয়। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসে বেশ কয়েকবার গৃহ নির্মাণ ও আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। এছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন কিন্তু লেখাপড়ার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আজও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো বাড়াবে এবং ফলাফল ভাল হবে বলে প্রধান শিক্ষক আশা প্রকাশ করেন। কয়েকজন অভিভাবক জানান, মাঠে বসে লেখাপড়ার কারণে শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। অনেক সময় ধমক দিয়ে পাঠাতে হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বরত সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।