মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার স্টেট অব দি ইউনিয়ন ভাষণে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মধ্যবিত্তদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ও বাজেট ঘাটতি মেকাবেলায় কাজ করার কথাও বলেছেন। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন আইন পাসের জন্য বিভক্ত কংগ্রেসের প্রতি তিনি আহবান জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।
ওবামা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম স্টেট অব দি ইউনিয়ন ভাষণ। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কক্ষে উভয় কক্ষের (সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ) যৌথ অধিবেশনে এই ভাষণ দেন। আয়কর ও সরকারি ব্যয় নিয়ে রিপাবলিকানদের সঙ্গে তিক্ত বিরোধের মধ্যেই ওবামা ভাষণ দেন। কিন্তু তার বক্তেব্যের দৃঢ়তায় ওই বিরোধ কিছু সময়ের জন্য হলেও চাপা পড়ে গিয়েছিল। ওবামা বলেন, সরকার সব সমস্যা সমাধান করে দেবে মার্কিনীরা এ আশা করে না, কিন্তু আমরা দলের স্বার্থের আগে জাতির স্বার্থকে প্রাধান্য দেব, এ আশা তারা করে। যে যে জায়গায় আমাদের মধ্যে যৌক্তিক সমঝোতা করা সম্ভব, আমরা দৃঢ়ভাবেই যেন তা করি এ আশাও তারা করে।
ওবামার এই ভাষণ বিরোধী রিপাবলিকানদের ওপর এক কঠিন চাপ। এতে বিভিন্ন ইস্যুতে রিপাবলিকানদের বিরোধিতাকে ‘জাতির স্বার্থের আগে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া’ হচ্ছে বলে নাগরিকদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। তিনি ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ৭ দশমিক ২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ঘণ্টাপ্রতি ৯ ডলার করার প্রস্তাব দিয়েছেন। মজুরি বৃদ্ধি করা হলে ব্যবসায়ীরা কর্মী ছাঁটাই করতে পারে, এই উদ্বেগে রিপাবলিকানরা মজুরি বাড়ানোর বিরোধিতা করে।
ওবামা মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ‘প্রকৃত চালক’ অভিহিত করে তাদের বিকাশের ওপর জোর দেন। এছাড়া কংগ্রেসকে ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধি, অভিবাসন আইন পর্যালোচনা এবং কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন করার জন্যও আহ্বান জানান তিনি। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আইন পরিষদের পরবর্তী নির্বাচন। সবার মনোযোগ ওই নির্বাচনের দিকে চলে যাওয়ার আগেই এক বছরের মধ্যেই এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে চান ওবামা। তার এই ভাষণে আভ্যন্তরীণ নীতি প্রাধান্য পেলেও পররাষ্ট্রনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। আফগানিস্তানে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ হাজার সেনার মধ্যে ২০১৪ সালের প্রথমভাগে ৩৪ হাজার সেনা ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন তিনি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে ওবামা বলেন, সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের সময় এসেছে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষা সম্পর্কে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বিশ্ব সমপ্রদায় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য এলাকা গঠনের জন্য আলোচনা শুরু হবে বলে জানান ওবামা। এটি সফল হলে আটলান্টিকের দুই পাড়ে গড়ে উঠবে বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য এলাকা।
