মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা ও অভিযুক্ত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের সদস্যপদ বাতিল করেছে জাতীয় প্রেসক্লাব। গতকাল বুধবার ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ। সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধাপরাধী হিসাবে অভিযুক্ত কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ কয়েকটি গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত জামায়াতে ইসলামীর এই দুই নেতা। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর বিচার চলছে। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় প্রদানের পর সদস্যপদ বাতিলের দাবি আরো জোরালো হয়। ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে শাহবাগসহ দেশব্যাপী গণজাগরণের সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় প্রেসক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি গতকাল বৈঠকে বসে এবং কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের সদস্যপদ সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল করে। প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রের ১৩(ক), ১২(ক) ও ৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে অংশ নেন ব্যবস্থাপনা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি কাজী রওনাক হোসেন, সহসভাপতি বখতিয়ার রানা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী ও ফরিদা ইয়াসমিন, কোষাধ্যক্ষ বদিউল আলম, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য পারভীন সুলতানা মুসা ঝুমা, নুরুল হুদা, নুরুদ্দীন আহমেদ, হাসান হাফিজ, ফরিদ হোসেন, শামসুদ্দীন আহমেদ চারু, নুরুল হাসান খান, শান্তা মারিয়া, মাঈনুল আলম ও ছাইফুল ইসলাম শামীম।
