রাজধানীতে শিবির আসছে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ভিড় করছে। এসেই জড়ো হয়ে চালাচ্ছে চোরাগোপ্তা হামলা। মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থানে হামলা চালানোর নির্দেশ দিচ্ছে। এসব নির্দেশ পেয়েই শিবির এখন ছুটছে রাজধানীতে। শিবিরের রাজধানীতে আসার তথ্য পেয়েই তত্পর হয়েছে পুলিশ ও র্যাব। বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে পুলিশ দফায় দফায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর বাইরে থেকে শিবির কর্মীরা জড়ো হওয়ার খবর আগেই জানা ছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ভোর থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল ও মহাখালী বাস টার্মিনালে অবস্থান নেয়। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে লঞ্চ ভেড়ার পর অভিযান চালিয়ে ৮৩ জন শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে অর্ধশত শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ দেখে যে, তাদের কাছে মতিঝিলে জড়ো হওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়ে একটি ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত পটুয়াখালী থেকে আসা শিবির কর্মী মামুনুর রশিদ শাকুর জানান, তাকে মোবাইল ফোনে ঢাকা থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বুধবার ভোরের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছতে। কখন ও কোথায় অপারেশন চালাতে হবে তা পরবর্তীতে ম্যাসেজের মাধ্যমে জানানো হবে বলে শিবিরের এক নেতা তাকে জানায়।
র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, রাজধানীর বাইরে থেকে শিবির কর্মীদের আসার তথ্য রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে এখন র্যাব বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে অভিযান চালাচ্ছে। এর আগে ঢাকার বাইরে থেকে আসা শিবিরের শতাধিক কর্মী র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।
ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকে বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের শিবির কর্মীরা আসছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এরা রাজধানীর বিভিন্ন মেসে অবস্থান করছে। অনেক শিবির কর্মী ছদ্মবেশে ফেরিওয়ালা হিসাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সুযোগ বুঝে তারা একজোট হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এভাবে কয়েকদিন আগে গুলিস্তানে জিরো পয়েন্ট থেকে বেশ কিছু ছদ্মবেশী ফেরিওয়ালা এক জোট হয়ে সচিবালয়ের দিকে হামলা চালায়। এরকম বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় ১০ হাজার শিবির কর্মী অবস্থান করছে যারা ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন। পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে শিবিরের কয়েকটি মেস সনাক্ত করা হয়েছে। এসব মেসে কারা অবস্থান করছে তার তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, রাজধানীর বাইরে থেকে শিবির কর্মীরা জড়ো হচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশও রয়েছে তত্পর। পুলিশ সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করছে।
