১০টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ
ইত্তেফাক ডেস্ক
ঘুর্ণীঝড় ফণীর কারণে উপকূলে বেড়িবাঁধ ভেঙে অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কোথায় কোথায় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে তাতে শেষ রক্ষা হবে কিনা সেটি খুব পরিস্কার নয়। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো সংবাদ।
পিরোজপুর অফিস:ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাত হানার খবরে পিরোজপুর জেলার উপকূলীয় উপজেলাগুলোর বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জেলা ও উপজেলা ঘূর্ণিঝড় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা গেছে। এর মধ্যে নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশী। বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি মঠবাড়িয়া উপজেলার ৫৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে সর্বাধিক সংখ্যক আশ্রিত রয়েছে।
বলেশ্বর নদীর মাঝেরচরে দুইটি সাইক্লোন শেল্টারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের খেতাচিড়া, কচুবাড়িয়া, উলুবাড়িয়া, খেজুরবাড়িয়ার অনেক লোক সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। ভান্ডারিয়ার তেলিখালী, হরিণপালা, জুনিয়া, বোতলা, হেতালিয়া, চরখালীসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ উপজেলার ৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে স্থান পেয়েছেন। ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া, পত্তাশী ও পাড়েরহাট ইউনিয়নের ১৯টি সাইক্লোন শেল্টারে লোকজন আশ্রয় নিয়েছেন। সদর উপজেলার শংকরপাশা ও শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়নের লোকজন অনুরূপভাবে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সন্ধ্যার পর আশ্রয় নিতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়া পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের খেতাচিড়ার বেড়িবাঁধ ভেঙে বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বলেশ্বর, সন্ধ্যা, কালিগঙ্গা, কঁচানদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শরণখোলা (বাগেরহাট):শরণখোলায় শুক্রবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বলেশ্বর নদীর তীব্র স্রোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের তিনটি পয়েন্টে রিংবাঁধ ভেঙে তিন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দশটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আতঙ্কিত এলাকাবাসী বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় ফণীর দমকা বাতাস ও থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বলেশ্বর নদীর পানির তোড়ে বগী নতুন স্লুইস গেট ও বগী কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং পূর্বের ভেঙে যাওয়া বগী সাতঘর বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকছে। জোয়ারের পানিতে বগী, দক্ষিণ সাউথখালী ও চালিতাবুনিয়া এই তিনটি গ্রামের চার সহস্রাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। বগীবন্দর থেকে গাবতলা আশার আলো মসজিদ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
বগী ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রিয়াদুল পঞ্চায়েত জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগী এলাকার বেড়িবাঁধের আরো দুটি পয়েন্ট নতুন করে প্রায় দুইশ মিটার ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে চার সহস্রাধিক পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।
এ ব্যাপারে বাপাউবোর ‘সিইআইপি’ প্রকল্পের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম মুঠোফোনে বলেন, বগী এলাকায় রিংবাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর তিনি জানেন না। খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বেড়িবাঁধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে
মনপুরা (ভোলা):মনপুরা মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে জনপদ। মেঘনার তীব্র ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাস্টার হাট বাজারের পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধ ও কোরেজডেম। হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনারচর রাস্তার মাথা, দাসেরহাট, চৌধুরী বাজারের পূর্বপাশের বেড়িবাঁধ। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ও পূর্বপাশের বেড়িবাঁধ।
ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো বালুভর্তি করে জিও ব্যাগ ফেলানোর উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবিলায় উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাস্টারহাট বাজার পশ্চিম পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষা করার জন্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল কালামের নেতৃত্বে জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে মেঘনার তীরে ফেলানো হচ্ছে।
পটুয়াখালীর ৫ গ্রাম প্লাবিত
পটুয়াখালী প্রতিনিধি ও মির্জাগঞ্জ ও কলাপাড়া:ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা নদী পাড়ের ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে জোয়ারের পানি। প্লাবিত হয়েছে সেখানকার পাঁচটি গ্রাম।
শুক্রবার সকালের জোয়ারে নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়। মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদী পাড়ের দেউলী-সুবিদখালী ইউনিয়নের ৪১/৭ পোল্ডারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাঙ্গা বেড়িবাঁধের ৭টি পয়েন্ট দিয়ে এলাকায় প্রবল বেগে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। এতে প্লাবিত হয় মেহেন্দিয়াবাদ, রানীপুর, হাজীপুর, চরখালী ও গোলখালী এই পাঁচটি গ্রাম।
এদিকে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে পায়রা বন্দর ঘেঁষা জনপদ কলাপাড়ার চারিপাড়া গ্রামে প্রবেশ করেছে। গ্রামবাসী একমাত্র ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। অন্যদিকে, মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর গ্রামে পাউবোর নব-নির্মিত বিকল্প বেড়িবাঁধেও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, মির্জাগঞ্জের পায়রা পাড়ের ৭শ’ মিটার বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা রয়েছে। জোয়ারের সময় ঐ এলাকা দিয়ে অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করেছে।
বেতাগী (বরগুনা):বেতাগীতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে চরে আটকা পড়েছে শতাধিক মহিষ। উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের বিষখালী নদীর মাঝে জেগে ওঠা চরখালী চরটিতে স্থানীয়রা গো-চারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। উপকূলীয় উপজেলা হিসাবে ৭ নম্বর সর্তক সংকেতের মাঝেও শুক্রবার সকালে মহিষগুলোর মালিকরা ঐ চরে পারাপার করে দেয়।
