স্বাস্থ্য বিভাগের সেই ‘সত্ কর্মকর্তাকে’ মিস করছেন ওরা

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫২
স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর সাবেক প্রধান ও লাইন ডাইরেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম ও তার কিছু সহযোগী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে ‘সত্ ও নিষ্ঠাবান’ কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত ছিলেন। স্বাস্থ্য খাতের আত্মসাত্ ও লুটপাটকৃত টাকার ভাগ নিয়মিত শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাসা কিংবা অফিসে পৌঁছে দিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করতো এই সিন্ডিকেট। গত মঙ্গলবার আনোয়ারুল ইসলাম ও তার সহযোগীসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর কর্মকর্তারা এখন আনোয়ারুল ইসলামকে খুব ‘মিস’ করছেন বলে জানা গেছে। কারণ বন্ধ হয়ে গেছে তাদের ঘুষ ও উপঢৌকনের রাস্তা। আর এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় সন্তুষ্ট সত্ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে অধিদফতরের কয়েকজনকে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়তে হয়েছে। আনোয়ারুল ইসলামসহ আটজনের অনিয়মের তদন্ত করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হওয়ার মত অবস্থা হয়েছে। দুদকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এই সিন্ডিকেট স্বাস্থ্যখাতের ২ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১২৩ টাকা আত্মসাত্ করেছে। দুদক গত মঙ্গলবার রমনা ও বনানী থানায় আনোয়ারুল ইসলামসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলার বাদী হলেন দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী ও উপ-সহকারী পরিচালক বজলুর রশীদ। বাকি আসামিরা হলেন স্ব্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট উপ-প্রধান (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) আবু হানিফ, সহকারী প্রধান (কারিগরি ও সহায়তা) শরিফুল ইসলাম ও মোখলেসুর রহমান, হিসাব সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক রশিদুল ইসলাম, বিজ্ঞাপন সংস্থা আলিফ অ্যাডের মালিক রিফাত সানজানি, বিজ্ঞাপনী সংস্থা বিএইচ ট্রেডার্সের মালিক ইমন হাসান ও বিজ্ঞাপনী সংস্থা এমবি এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ মনিরুজ্জামান। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে এইচআইভি, এইডস, অ্যানথ্রাক্স, ধূমপান, নিপাহ ভাইরাসসহ সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচার-প্রচারণা ও উদ্বুদ্ধকরণ সভা-সেমিনারের নামে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তারা ২ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১২৩ টাকা আত্মসাত্ করে। এভাবে গত অর্থ বছরগুলোতেও তারা সভা-সেমিনারের নামে ভুয়া বিলের মাধ্যমে বিপুল অর্থ লুটপাট করেছে। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ বলেন, এই দফতরে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এখন আর আগের সেই পরিস্থিতি স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোতে নেই বলে তিনি জানান।