সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার কমল দুদক কার্যালয়ে আসলে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক এসএমএম আখতার হামিদ ভুঁইয়া জানান, হলমার্কের আত্মসাতকৃত মোট ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার মধ্যে প্রথমে ফান্ডেড ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের তদন্ত করছে দুদক। আত্মসাত করা এ অর্থের মধ্যে (ফান্ডেড অংশের) প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার বিষয়ে সাইমুম সরওয়ার কমলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হলমার্কসহ ৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখা থেকে ঋণের নামে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে বিষয়টি ধরা পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে সহায়তা করতে দুদকের কাছে চিঠি পাঠায়। এরপরই দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদিন শিবলীর নেতৃত্বে দুদক ৬ সদস্যের একটি অনুসন্ধানী কমিটি গঠন করে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানী কমিটি দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সোনালী ব্যাংক ও হলমার্ক গ্রুপের ২৭ জনকে আসামি করে রাজধানীর রমনা থানায় ১১টি মামলা করে। এরপর দুদক হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভির মাহমুদ ও গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক তুষার মাহমুদকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। রিমান্ড শেষে তানভির আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে সাইমুম সারওয়ার কমলকে ঘুষ দেয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। তানভিরের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে দুদক কমলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো।
