যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের বাইরে কি হচ্ছে সেটা আমাদের বিচার্য বিষয় নয়। বাইরের বক্তব্যে ট্রাইব্যুনাল চলে না। ট্রাইব্যুনাল চলবে নিজস্ব আইন অনুযায়ী। সাক্ষী-প্রমাণের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনাল রায় দেবে। গতকাল বুধবার
বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এই মন্তব্য করেন। গোলাম আযমের মামলার বিচার কাজ মুলতবি রাখতে তার আইনজীবীর করা এক আবেদনের ওপর শুনানিকালে এ মন্তব্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনাল-১ এ গতকাল গোলাম আযমের মামলায় সাফাই সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু গোলাম আযমের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম মামলার বিচার কাজ দুই সপ্তাহ মুলতবি রাখার আবেদন করেন। তাজুল ইসলাম শাহবাগের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, একজন সাক্ষী অসুস্থ। এজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। দুই জন সাক্ষী বিদেশী। তাদের আনতে দেরি হচ্ছে। এ উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সাক্ষী আসতে ভয় পাচ্ছে। তিনি বলেন, মতিঝিলে প্রচন্ড গোলাগুলি হচ্ছে। এ মামলার প্রধান আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারেননি। তাই বিচার কাজ মুলতবি রাখার আবেদন করছি। এসময় ট্রাইব্যুনাল তাকেই শুরু করার অনুরোধ করেন। তবে আসামিপক্ষের আবেদনের বিরোধিতা করেন প্রসিকিউর জেয়াদ আল মালুম ও সুলতান মাহমুদ সীমন। জেয়াদ আল মালুম বলেন, এ ধরণের আবেদন গ্রহণ করা উচিত না। তিনি বলেন, আপনারা বাইরে বলবেন ট্রাইব্যুনাল ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। বিচার মানেন না। এসময় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর বলেন, আপনারা বাইরের বিষয় ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসবেন না। ট্রাইব্যুনালের বাইরে কি হচ্ছে, তা আমাদের বিচার্য বিষয় না। এসময় প্রসিকিউটরকে উদ্দেশ করে তাজুল ইসলাম বলেন, আপনারা তো বাইরে গোলাম আযমের ফাঁসি চেয়ে শ্লোগান দেন। ওই সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত অপর প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী বলেন, বাইরে গেলে আমরা সাধারণ মানুষ। আর ট্রাইব্যুনালে আসলে অফিসার্স অফ দ্যা কোর্ট।
এদিকে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলা ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মূলতবি কর হয়েছে। গতকাল দুই ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযম ও সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলায় আসামিপক্ষের দুই আইনজীবী গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে না পারায় এ মামলার বিচার কাজ আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
