রংপুরসহ তিন জেলায় দ্রুত ধানসহ ফসল তোলার নির্দেশ

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ২১:৫১

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

রংপুর বিভাগের রংপুর জেলাসহ কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট জেলার কৃষকদের জন্য বিশেষ বার্তা প্রদান করা করেছে কৃষি তথ্য সার্ভিস। মাঠে যেসব এলাকায় বা জমির বোরো ধান ৮০ শতাংশের বেশি পেকে গেছে সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলতে বলা হয়েছে। কারণ “ফণীর” প্রভাবে এসব এলাকায় তীব্রবেগে বাতাস ও টানা চারদিন ধরে প্রচুর বৃষ্টি হতে পারে। এতে করে পাকা ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিষয়ক আবহাওয়া বার্তায় কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শুধু ধানই নয়, পরিপক্ব মিষ্টি কুমড়া, মরিচ, কাউন, চিনাবাদাম, রবি ভুট্টা ও বিভিন্ন শাক-সবজি দ্রুত চাষাবাদের মাঠ থেকে সংগ্রহ করে নিতে হবে। এসব এলাকায় ফণীর প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে তাতে এসব ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি বা ঝড়ের সম্ভাবনার সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে শুক্র থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট চারদিন।

জানা গেছে, দেশের ১৯টি জেলায় বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও সারাদেশের কৃষকদেরকেই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যেহেতু এটা বোরোর মৌসুম। তথ্যগুলো দ্রুত কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে টিভি ও রেডিওতে বিশেষ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ১৯টি জেলার সকল মাঠ কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যারা নিজেরা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে কৃষকদের কাছে এসব তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে।  কৃষি তথ্য সার্ভিসের কৃষিবিদ ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বোরোর মৌসুম হওয়ার কারণে সারাদেশের কৃষকদের জন্যই এসব সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে। কারণ সারাদেশেই বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যে ১৯টি জেলা বেশি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে বিশেষভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যাতে কৃষকদের ক্ষতি না হয় বা কমিয়ে আনা যায়। এসব জেলায় কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

‘ফণী’ আতঙ্কে কৃষক

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মাঠের পর মাঠ ছেয়ে আছে পাকা বোরো ধান। প্রায় ৭০ ভাগ জমির বোরো ধানে পাক ধরেছে। ধানা কাটাও একটু একটু করে শুরু হয়েছে। তবে আর কয়েকদিন পরেই শুরু হবে পুরো দমে ধান কাটা ও মাড়াই উত্সব। কিন্তু ‘ফণী’ আতঙ্কে গোপালগঞ্জের বোরো চাষিদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। সারাদিন প্রচণ্ড গরম শেষে শুক্রবার দুপুর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলার কৃষকদের আতঙ্ক আরো বেড়ে গেছে। এমন অবস্থায় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষক।

কাশিয়ানীর শিল্টা গ্রামের কৃষক সাকায়েত হোসেন বলেন, আমার দশ বিঘা জমির পুরো ধান পেকে গেছে। কিন্তু কৃষাণের অভাবে ঘূর্ণিঝড়ের আগে কাটতে পারছি না। ধান নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি, জানি না কি হবে। সব আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি। একই উপজেলার জোতকুরা গ্রামের কৃষক মো. মোসলেম মোল্যা বলেন, দশজন ধান কাটা কৃষাণ নিয়েছি। আকাশে মেঘ দেখা যাচ্ছে এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হচ্ছে। আল্লাহই জানে ঠিকমতো ধান কাটতে পারবো কি না। শুনেছি সিডরের চেয়েও ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হবে। তাই পাকা ধান নিয়ে চিন্তায় আছি।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণের ভারপ্রাপ্ত ডিডি হরলাল মধু বলেন, ইতোমধ্যে জেলার ৫০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে ৮০ ভাগ পাকা বোরো ধান কাটতে এবং ভুট্টা, চীনা বাদামসহ পরিপক্ব সব ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। দ্রুত ধান কেটে নিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হয়েছে। আমরা জেলার সকল ইউনিয়ন উপকৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষকদের বিষয়টি জানিয়েছি।