বড় বিপদের মুখোমুখি পিএসএল

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৫
প্রস্তাবিত পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রধান ব্যক্তি পদত্যাগ করায় অনেক প্রত্যাশার এ টুর্নামেন্ট আবার একটি বড় ধাক্কা খেলো। পাশাপাশি ব্যাহত হল দেশটিতে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর প্রচেষ্টাও। অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে এই টুর্নামেন্টটি। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাহোরে ২০০৯ সালে শ্রীলংকা দল বহনকারী বাসে সন্ত্রাসীদের হামলায় আটজন পাকিস্তানী নাগরিক নিহত ও সরকারি দলের সাতজন আহত হওয়ার ঘটনার পর থেকে আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি পাকিস্তানে। পূর্বসূচি অনুযায়ী ২৬ মার্চ পিএসএল শুরু হওয়ার কথা ছিলো। মূলত খেলোয়াড়দের পাকিস্তানে আনার পদক্ষেপ হিসেবে এ টুর্নামেন্টকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিলো। দুই সপ্তাহের এ টুর্নামেন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয়ের স্বপ্নও দেখছিলো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। কিন্তু খেলোয়াড় এবং স্পন্সরদের প্রস্তুতির জন্য আরো দরকার উল্লেখ করে গত শুক্রবার অনির্দিষ্টকালের জন্য এ টুর্নামেন্ট স্থগিত করে পিসিবি। এবং বুধবার রাতে পিএসএল ম্যানেজিং ডিরেক্টর সালমান সারোয়ার বাট পদত্যাগপত্র জমা দেন। অত্যন্ত সফল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) আদলে পিএসএল আয়োজনের ঘোষণা দেয়া হয় ১০ জানুয়ারি। পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে দু’সপ্তাহব্যাপী এ টুর্নামেন্টে মোট ২৩টি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। এ ইভেন্টে পাঁচ কম করে হলেও মোট ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হওয়ার কথাও জানায় আয়োজকরা। তবে এ ঘোষণা দেয়ার দিনই দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় পাকিস্তানে ৯২ ব্যক্তি নিহত হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় এসোসিয়েশন এ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বিদেশি খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দেয়া সত্ত্বেও ৮০ জনের অধিক বিদেশি খেলোয়াড় ইতোমধ্যেই চুক্তি করেছে বলে দাবি করেছিলো পিসিবি। যদিওবা চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকার করে পিসিবি। পাকিস্তানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি সম্ভব নয় বলে ফেডারেশনস অব ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন (ফিফা) বিবৃতি প্রকাশ করে। তারপরই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা পিএসএল-এ অংশ নিতে পদের কোনো খেলোয়াড় ছাড়বে না বলে ঘোষণা দেয়। পাকিস্তানে অবস্থান করা কিছু পর্যবেক্ষকের মতে ইসলামী মৌলবাদী জঙ্গীরা যেভাবে প্রতিদিন সারাদেশে বোমা বিস্ফোরণ কিংবা মানুষ হত্যা করছে তাতে এ টুর্নামেন্ট কখনোই ফলদায়ক হবে না। সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ বলেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য এ লীগ স্থগিত করাটা পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি বড় ধাক্কা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে নিরাপত্তার যে অবস্থা তাতে একটি দল বিক্রির জন্য দুই মিলিয়ন ডলারের কথা বলাটা অযৌক্তিক ও বাস্তবতা বিবর্জিত।’ পিসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘খুব শিগগিরই পিএসএল আয়োজনের একটি উপযুক্ত তারিখ ঠিক করার জন্য তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’ তবে আগামী ৩ এপ্রিল-২৬ মে আকর্ষণীয় আইপিএল অনুষ্ঠিত হবে। তাই একটি উপযুক্ত বেছে নেয়াটা কঠিন হবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক সভাপতি এহসান মানি বলেন, ‘এমনকি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলেও বিদেশি খেলোয়াড়দের তাদের সংশ্লি¬ষ্ট বোর্ডগুলো আসতে অনুমতি দেবে না।’ পাকিস্তান সফরে আসা পিসিবি চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ গত বছর দু’বার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়েছিলো। মোটামুটি রাজি হলেও বাংলাদেশ হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় আর আসা হয়নি বাংলাদেশ দলের। মানি বলেন, ‘পিসিবির উচিত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং যাদের পরামর্শ পাকিস্তানে জাতীয় দল না আসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সে সকল দেশের দূতাবাসের বিশ্বাস স্থাপন করা।’ ‘এ সকল দূতাবাস যদি একবার বলে যে, পাকিস্তানে দল পাঠানো সত্যিই নিরাপদ কেবলমাত্র তারপরই বিদেশি দলগুলো এখানে আসার কথা বিবেচনা করবে।’ পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দেশে আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে পিএসএল আয়োজনের পক্ষে নয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মে মাসে নির্বাচন হওয়ার কথা এবং নিরাপত্তা বাহিনীগুলো এ নির্বাচনে ব্যস্ত থাকবে। - বাসস/এএফপি