আশুগঞ্জ আন্তর্জাতিক নৌবন্দর

কোন রাজস্ব না দিয়ে গত ৫ মাসে ৫ হাজার টন পণ্য ভারতে

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৪০
ঢাকা-সিলেট নৌরুটে নদী নাব্যতা সংকটের কারণে গত ৬ মাস ধরে বড় কোন কার্গো জাহাজে সরাসরি পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। যার কারণে গত বছরের অক্টোবর মাসে ভারতের কলকাতা থেকে ৫ হাজার টনেরও অধিক পণ্য নিয়ে আসা ৬টি কার্গো জাহাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ আন্তর্জাতিক বন্দরে আটকা পড়ে। এই পণ্যগুলো নৌ-প্রটোকল চুক্তির আওতায় সরাসরি ভারতের আসাম রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এসব পণ্য নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে সরাসরি পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে এসব পণ্য আশুগঞ্জ আন্তর্জাতিক নৌবন্দরে ট্রান্সশিপমেন্ট করে ছোট ছোট জাহাজের মাধ্যমে ভারতের আসাম রাজ্যে নেয়া হয়। কাষ্টমস আনুষ্ঠানিকতা ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ শেষ করে সর্বশেষ চালানের ৪৮০ টন পণ্য নিয়ে দুটি জাহাজ গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে আশুগঞ্জ বন্দর ত্যাগ করেছে। ভারতীয় পণ্যবাহী ৬টি জাহাজ দেশের সাড়ে ৪’শ কিলোমিটার জলপথ ও বন্দর ব্যবহার করলেও এসব পণ্য থেকে কোন রাজস্ব আদায় করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে পর্যায়ক্রমে ভারতের কলকাতা ক্ষিদিরপুর নৌবন্দর থেকে ৫ হাজার ১’শ ৯১ মেট্রিক টন ফ্লায়েশ ও কয়লা নিয়ে ৬টি বড় কার্গো জাহাজ সরাসরি আসাম রাজ্যের বদরপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। কিন্তু মেঘনা নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে এসব পণ্যবাহী জাহাজ আশুগঞ্জ নদীবন্দরে এসে নোঙ্গর করে। এসব পণ্যের কাষ্টমস যাচাই শেষে গতকাল জাহাজ দুটি আশুগঞ্জ বন্দর ত্যাগ করে। এ সময় আশুগঞ্জ বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিবহন পরিদর্শক মো. শাহ আলম ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেনসহ পণ্য পরিবহনকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বেলায়েত নেভিগেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন জানান, নৌপ্রটোকল চুক্তির আওতায় এসব পণ্য পরিবহন করায় এ থেকে কোন অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে না। তবে দেশীয় জাহাজে এসব পণ্য পরিবহন করায় দেশ লাভবান হচ্ছে।