দেশে এলপি গ্যাসের বাজার বেসরকারি কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ এলপি গ্যাস ৪টি বেসরকারি কোম্পানি বাজারজাত করে থাকে। ৭০০ টাকার সিলিন্ডার বাজারে ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এলপি গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য চট্টগ্রামের কুমিরার ও খুলনা মংলা বন্দর এলাকায় দু’টি এলপি গ্যাস পরিশোধনাগার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ প্রকল্প দু’টি বাস্তবায়িত হলে বছরে ২ লাখ টন এলপি গ্যাস পরিশোধন করে বাজারে সরবরাহ করা যাবে।
বিপিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারিভাবে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ হাজার টন ও সিলেটের কৈলাশটিলায় ৭ হাজার টন এলপি গ্যাস উত্পাদন করা হয়। দেশে উত্পাদিত প্রায় ১ লাখ টনের মধ্যে বাকি এলপি গ্যাস বেসরকারি কোম্পানীগুলো সরবরাহ করে থাকে। গত কয়েক বছর যাবত্ চরম গ্যাস সংকট চলছে। চট্টগ্রামসহ কয়েকটি অঞ্চলে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামে প্রায় ১৫ হাজার আবাসিক গ্রাহকের নতুন সংযোগ প্রদান গত ৬/৭ বছর ধরে আটকা পড়েছে। ফলে বাজারে এলপি গ্যাসের চাহিদা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবাসিক খাতে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার এলপি গ্যাসের উত্পাদন বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে। বিপিসি সূত্র জানায়, খুলনায় মংলা বন্দর এলাকায় প্ল্যান্টটি স্থাপনে ব্যয় হবে প্রায় ২২০ কোটি টাকা। বিপিসি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানিগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে প্রকল্পের অর্থের যোগান দেয়া হবে। এই প্রকল্প থেকে বছরে ১ লাখ টন এলপি গ্যাস বোতলজাত করে বাজারজাত করা হবে। অপর প্ল্যান্টটি চট্টগ্রামের কুমিরায় স্থাপন করা হবে। এটি পাবলিক পার্টনারশীপের মাধ্যমে স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পের উত্পাদন ক্ষমতা বছরে ১ লাখ টন।
এ প্রসঙ্গে এলপিজি ইম্পোর্ট, স্টোরেজ এন্ড বোটলিং প্ল্যান্টের প্রজেক্ট ডাইরেক্টর প্রকৌশলী ফজলুর রহমান খান ইত্তেফাককে বলেন, ‘এলপি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সরকার প্রকল্প দু’টি দ্রুত বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। মংলা প্রকল্পের টেন্ডার হয়েছে। শীঘ্রই মূল কাজ শুরু হবে। অপর প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৪ সালের মধ্যে মংলায় এলপি গ্যাস প্ল্যান্টটি বাস্তবায়ন করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলপি গ্যাসের প্লান্ট স্থাপনের জন্য সরকার প্রায় ২০ থেকে ২৫টি বেসরকারি কোম্পানিকে লাইসেন্স দিয়েছে। কিন্তু এসব কোম্পানী প্লান্ট স্থাপনে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন ব্যয় সাপেক্ষ। ফলে অনেকেই লাইসেন্স নিয়ে বিনিয়োগ করছে না। তবে বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানীগুলো এলপি গ্যাস বাজারজাত করলে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ভেঙে যেতো। বর্তমানে বেসরকারিভাবে টোটাল, বসুন্ধরা, ক্লিনহিট ও সামিট কোম্পানির এলপি গ্যাস বাজারজাত হচ্ছে। তারা বছরে ৮০ হাজার টন এলপি গ্যাস বাজারজাত করে থাকে। পরিশোধিত এলপি গ্যাস আমদানি করে নিজেরাই বোতলজাত ও বাজারজাত করে এসব কোম্পানি। বিপিসি অপরিশোধ এলপি গ্যাস আমদানি করে ইস্টার্ন রিফাইনারি ও কৈলাশটিলায় শোধনাগারে পরিশোধনের মাধ্যমে বোতলজাত করে। কিন্তু সরকারি এসব এলপি গ্যাসও বাজারে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি খরচ বেশি হওয়ায় সিলিন্ডারের দাম চড়া। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন এলপি গ্যাস ৭০০ থেকে ১২০০ ডলার পর্যন্ত বিক্রি হয়।
