চেকবই সনদ আইডি কার্ড সবই নকল হয় নীলক্ষেতে

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫৮
রাজধানীর নীলক্ষেত বাকুশাহ মার্কেটে কী নকল হয় না? বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সনদ এবং নম্বরপত্র, জাতীয় পরিচয় পত্র, ব্যাংকের চেকবই, ব্যাংক গ্যারান্টি ও ব্যাংক স্বচ্ছলতা সনদ, আয়কর সনদ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া কর্মীদের আইডি কার্ড সবকিছুই মেলে এখানে। এমনকি আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীসহ দেশের সব বাহিনীর জাল আইডিকার্ডও চক্রটি অপরাধীদের কাছে বিক্রি করছে। মাত্র ৫শ’ টাকা দিলে যে কোন সনদ পৌঁছে যায় ক্রেতার হাতে। গতকাল বৃহস্পতিবার র্যাব-১০ এর একটি বিশেষ দল নীলক্ষেতে অভিযান চালিয়ে ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা জানায়, ৫শ’ টাকা দিলে যেকোন সার্টিফিকেট তৈরি করে দেয় তারা। এভাবে তারা বিপুল অর্থ কামিয়েছে। ব্যাংকের নকল চেক বই, ব্যাংক গ্যারান্টি ও স্বচ্ছলতা সনদ অনেকের কাছে বিক্রি করেছে। এভাবে জাল সনদ দিয়ে অনেকে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বলে জানায় চক্রটি। সমপ্রতি কয়েকটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনা তাদের দেয়া সনদে হয়েছে বলে দাবি করেন গ্রেফতারকৃতরা। ব্যাংকগুলোর এক শ্রেণীর কর্মকর্তা জাল ও নকল সনদে ঋণ দেয়ার সঙ্গে জড়িত। আইন-শৃংখলা বাহিনীর নকল পরিচয়পত্র নিয়ে পেশাদার কিলার, ডাকাত ও দুর্ধর্ষ অপরাধীরা খুন, ডাকাতি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি করে আসছে বলে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর পরিচয়পত্র দেখিয়ে ডাকাতি, অপহরণ, গুমসহ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও র্যাব ওই ভুয়া আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। । গতকাল যাদের গ্রেফতার করা হলো: মো. বাপ্পি (২৪), মো. আলাউদ্দিন (২০), মোশাররফ হোসেন (২৮), মো. রিয়াজ হোসেন (৩৫), মেহেদী হাসান (১৯) ও রনি চৌধুরী (৪০)। এসময় কম্পিউটারসহ নকল সনদ তৈরির নানা জিনিসপত্র জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে তাদের আরও বেশ কয়েকজন সহযোগী রয়েছে। র্যাব-১০ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, গ্রেফতারকৃত প্রতারক চক্রের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পলাতক চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি জানান। বিআরটিএ এলাকা থেকে ২৬ দালাল গ্রেফতার গতকাল র্যাব-১০ এর একটি বিশেষ দল বিআরটিএ ইকোরিয়া কার্যালয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৬ দালালকে গ্রেফতার করেছে। গাড়ির লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স করে দেয়ার নামে তারা জালিয়াতি করে আসছিল। তাদের সঙ্গে বিআরটিএ’র এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত বলে দালালরা জানিয়েছে।