শিবিরের হামলায় আহত ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫৯
শিবিরের হামলায় আহত ব্যাংক কর্মচারী জাফর মুন্সি (৪৫) গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গ্রিন লাইফ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত বুধবার মতিঝিলে জামায়াত-শিবিরের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। নিহত জাফর মুন্সি মতিঝিলে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের লিফট চালক ছিলেন। এদিকে মতিঝিলে বুধবার শিবিরের হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনের দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দু’টিতে ১৪৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। নিহতের বড় ভাই অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার শাহাবুদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্যাংকের সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে শিবিরের লোকেরা উপর্যুপরি মাথায় আঘাত করে জাফরকে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি ব্যাংকের অপর কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। অগ্রণী ব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, শিবির ক্যাডাররা ব্যাংকের সামনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে লাগানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলতে গেলে জাফর তাতে বাধা দেয়। এ সময় তাকে ব্যাপক মারধর করে শিবিরের লোকজন। উপস্থিত জনতা সে সময় শিবিরের ৫ জনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। নিহত জাফরের চাচা একই ব্যাংকের কর্মচারী (জমাদার) তোতা মিয়া জানান, জাফরের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। জাফর দুই যুগ ধরে এই ব্যাংকে চাকরি করছিলেন। তিনি বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি সংবলিত পোস্টার ছিঁড়তে বাধা দেয়ায় জাফরের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে শিবির ক্যাডাররা। জাফরের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার গঙ্গাদর্জি গ্রামে। তার বাবার নাম খোরশেদ আলী। ১৯৮৮ সাল থেকে অগ্রণী ব্যাংকে চাকরি করছিলেন তিনি। শাহাবুদ্দিন সন্ধ্যা ৭টায় ইত্তেফাককে বলেন, জাফরের লাশ নিয়ে তারা গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এদিকে মতিঝিলে বুধবার শিবিরের হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে ঐ দিন রাতেই দু’টি মামলা হয়েছে। মামলা দু’টি করেছেন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশীদ ও নাহিদ আহাম্মেদ। মতিঝিল থানার এসআই ও একটি মামলার বাদি নাহিদ আহাম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, দু’টি মামলায় ১৪৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০০ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।