বগুড়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতের এজলাস ভেঙে জামিন বাতিল হওয়া ৬ আসামি পালিয়ে যাওয়ার পর আত্মসমর্পণ করেন। তারা সবাই স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। এ সময় তারা আদালতের বেঞ্চ ভাংচুরসহ নথিপত্র তছনছ করে এবং শহরের নবাববাড়ি সড়কে তাণ্ডব চালায়। এই ঘটনা গতকাল বেলা ১টার দিকে ঘটে। পরে বেলা আড়াইটার দিকে তারা আদালতে ফিরে আত্মসমর্পণ করেন। জামিন বাতিল হওয়া ৬ আসামি হলেন-জেলা যুবদলের সভাপতি সিপার আল বখতিয়ার, সাধারণ সম্পাদক আরাফাতুর রহমান আপেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর শাহ মো. মেহেদী হাসান হিমু, শহর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মহরম আলী টফিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা শাহরিয়ার সুমন গোর্কি ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা শাহ আলম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের হরতাল চলাকালে ককটেলের আঘাতে সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক জগলুল পাশা আহত হন। পরে ১৮ ডিসেম্বর পাশা বাদি হয়ে ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৪০ জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন নেন। তারা গতকাল বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আব্দুল হামিদ ৩৪ জনের জামিন মঞ্জুর এবং উল্লিখিত ৬ জনের জামিন না-মঞ্জুর করেন। এ সময় এজলাসে থাকা আসামিরা শ্লোগান দিয়ে এজলাস ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে আদালতের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক ভাংচুর ও নথিপত্র তছনছ করে। পরে তারা মিছিলসহ বেরিয়ে যাওয়ার সময় আদালতের সামনের সড়ক হয়ে নবাববাড়ী সড়ক ও চেলোপাড়ায় অন্তত ১০টি গাড়ি ও দোকানপাট ভাংচুর করে। এছাড়াও সড়কের ভেতরে রাখা অস্থায়ী ডিভাইডার ফেলে রেখে যায়। পরে বেলা আড়াইটার দিকে পালিয়ে যাওয়া আসামিরা পুনরায় আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
এই ঘটনায় গতকাল বিকালে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (সিএসআই) আতাউর রহমান বাদী হয়ে মোট ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত ১০০ জনের নামে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলায় উল্লেখিত ৬ আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আসামি পক্ষের আইনজীবী আবদুস সালাম বলেন, জামিন বাতিলের পর আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে এজলাস থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় একটি বেঞ্চ পড়ে যায়। তারা কোন ভাংচুর করেনি। তবে বাইরে থাকা আসামিদের কর্মী-সমর্থকরা কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
