এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্র

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৩৭
জীবন-বন্দনা কাজী নজরুল ইসলাম ১.নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও ‘তরুণের তাজা প্রাণ পথ হারালেও হার মানে নাকো, করে চলে সন্ধান অন্য পথের, মুক্ত পথের, সন্ধানী আলো জ্বলে বিনিদ্র আঁখি তারকার সম, পথে পথে তারা চলে।’ ক. ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় কাদের জয়গান গীত হয়েছে? খ. কবি কিছু মানুষকে ‘কূপমণ্ডূক’ আখ্যা দিয়েছেন কেন? গ. উদ্ধৃত কবিতাংশের আলোকে ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতার মর্মবাণী নিরূপণ করো। ঘ. উদ্ধৃতির এ অংশটুকু ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতাকে কতটা সার্থকতার সঙ্গে উপস্থাপন করতে পেরেছে তা বিচার-বিশ্লেষণ করো। ‘ক’-এর উত্তর ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় শ্রমজীবীদের জয়গান গীত হয়েছে। ‘খ’-এর উত্তর ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় সমাজ প্রগতির অগ্রনায়কদের সম্পর্কে রক্ষণশীলদের মনগড়া অপবাদ নির্দেশ করতে গিয়ে শব্দটি ব্যবহার করেছেন। ‘কূপমণ্ডূক’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কুয়োর ব্যাঙ। এর আলংকারিক অর্থ হলো সংকীর্ণমনা ব্যক্তি অর্থাত্ বাইরের জগত্ সম্পর্কে জ্ঞান নেই এমন ব্যক্তি। তরুণরা প্রাণচঞ্চল। কিন্তু সমাজের কিছু নিচুমনা ব্যক্তি তাদেরকে অসভ্য বর্বর, অসংযমী ও কূপমন্ডূক বলে নিন্দা করে। এরা চিন্তা ও ধ্যান-ধারণায় রক্ষণশীল। সমাজের প্রগতিশীল বিকাশে এদের অবস্থা নেই। কবি এদের বদ্ধ ধ্যান-ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাদের ‘কূপমণ্ডূক’ আখ্যা দেন। ৮ নম্বর প্রশ্নের ‘গ’-এর উত্তর ‘জীবন-বন্দনা’ মানব প্রশান্তিমূলক কবিতা; উদ্দীপকটিতেও চিরজীবী দুঃসাহসী অভিযাত্রিকদের প্রশস্তি গাওয়া হয়েছে। কবি শ্রমজীবী মানুষদের দুর্জয় সাহস, কঠোর শ্রমনিষ্ঠা ও সুমহান আত্মত্যাগের জন্যে বন্দনা গান করেছেন- ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায়। এসব শ্রমজীবীরাই নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে পৃথিবীকে ফুলে-ফলে ভরে তুলেছে। তাদের অক্লান্ত শ্রমনিষ্ঠার ফলেই এ শ্বাপদসংকুল পৃথিবী হয়ে উঠেছে সুশোভিত। উদ্দীপকে কবি দীপ্তিমান তরুণ প্রাণশক্তির অধিকারী অভিযাত্রিক দলের জয়গান করেছেন। আর ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় সভ্যতার অগ্রপথিক তারুণ্য শক্তির জয়গান রচিত হয়েছে। অমিত প্রাণশক্তি ও তারুণ্যের গতিবেগের কারণেই এসব দুঃসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে। উদ্দীপকেও দেখা যায়, তরুণ প্রাণ অভিযাত্রিক দুর্দমনীয় এবং প্রাণচাঞ্চল্যের প্রতীক। তাদের চলার পথ বিপদসংকুল, কণ্টকাকীর্ণ। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তারা অন্ধকারের ভেতর থেকেই মুক্ত আলোকময় পথের সন্ধান করে আনে। পথ হারালেও শঙ্কিত হয় না তারা। প্রাণের দীপ্তির আলো জ্বেলে নতুন পথ রচনা করে তারা। তাদের চলা অপ্রতিরোধ্য। এদিক থেকে উদ্দীপকের মর্মবাণীই ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতার মর্মবাণী হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। ৮ নম্বর প্রশ্নের ‘ঘ’-এর উত্তর কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় মানুষের জন্যে আত্মত্যাগী জীবনের বন্দনায় মুখর হয়েছেন । উদ্দীপকেও তরুণ প্রাণের অফুরন্ত প্রাণশক্তি এবং অগ্রযাত্রার অটল মনোবলের প্রশস্তি কীর্তন করা হয়েছে। উদ্দীপকের অংশটুকু ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতাকে যতটা সার্থকভাবে উপস্থাপন করেছে : শ্রমজীবী মানুষ ও নির্ভীক তারুণ্যের উদ্দাম ও স্পর্ধিত অভিযাত্রাই ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতার মূল সুর। ‘গাহি তাহাদের গান’ বলে কবি যাদের বন্দনা করেছেন তাদের কর্মের পরিধি আর জীবনের অপার কর্ম উদ্দীপনা উদ্দীপকের অংশটুকুতে তরুণ দলের অসীম সাহস আর সাফল্যের কথা উচ্চারিত হয়েছে। ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ রাত্রি, প্রবল বৃষ্টি, রৌদ্রের দাবদাহ, কোনো প্রকার দুঃখ-কষ্ট তাদের গতি রোধ করতে পারে না। অনেক পাষাণ, অনেক পাথার আর অনেক প্রান্তর পার হয়ে অভিযাত্রিকরা অভিষ্ট লক্ষ্যে অগ্রসরমান। কঠিন প্রতিজ্ঞা, অবিচল মন আর অসীম প্রাণশক্তি নিয়ে তারা সামনে এগিয়ে যায়। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তারা অন্ধকারের ভেতর থেকেই মুক্ত আলোকময় পথের সন্ধান করে আনে। উদ্দীপক অংশের বক্তব্যের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার বক্তব্য একই সুরে ধ্বনিত হয়েছে। পার্থিব জগতের বিশাল কিছু সৃজনে, নির্মাণে, স্বপ্নময় উদ্ভাসনে এরাই পৃথিবীকে করেছে সুশোভিত, কুসুমিত। কবি সেসব মানুষের মহিমা কীর্তন করেছেন যারা ধরায় এনেছে, ফসলের সমৃদ্ধ জোয়ার, যাদের বজ্র কঠিন হাতের ছোঁয়াই মৃত্তিকা রত্নগর্ভা হয়েছে। সভ্যতার নির্মাতা শ্রমজীবী মানুষ ও উদ্দীপকে বর্ণিত অভিযাত্রিকরা অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী। সহস্র প্রতিবন্ধকতার বেড়াজাল ডিঙিয়ে অন্ধকারের শৃঙ্খল ভেঙে তারা মুক্তির পথে এগিয়ে চলে। উদ্দীপকের অংশটুকুর অন্তর্নিহিত সাদৃশ্যে ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতাকে সার্থক হিসেবে প্রমাণ করেছে। উত্তরের সারবস্তু : তরুণরা মৃত্যুঞ্জয়ী জীবন উচ্ছ্বাসে প্রাণ বাজি রেখে মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে তেজোদীপ্ত অভিযাত্রায় অগ্রসর। তারুণ্যদীপ্ত এসব মানুষই তাদের কঠিন শ্রম ও কর্ম-সাধনায় পৃথিবীকে ফলে-ফসলে পুষ্পিত করে তুলেছে, মৃত্যু সমাকীর্ণ আরণ্যক পৃথিবীকে করে তুলেছে বাসযোগ্য ও মনোরম। উদ্দীপকের অংশটুকুর অন্তর্নিহিত সাদৃশ্যে ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতাকে সার্থক হিসেবে প্রমাণ করেছে।