চট্টগ্রামে স্যান্ডেল আমদানিতে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৫
চীন থেকে স্যান্ডেল (স্লিপার) আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাপক শুল্ক ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। প্রতিমাসে দেশে কয়েকশ’ টন হালকা (ইভা) ও ভারি স্পঞ্জের স্যান্ডেল চীন থেকে আমদানি করা হচ্ছে। স্যান্ডেলের তলা (স্লিপার) ও ফিতা সাধারণত আলাদাভাবে আনা হয়। দেশে আনার পর নিজস্ব কারখানায় সম্পূর্ণ স্যান্ডেল তৈরি করা হয়। চায়না থেকে দেশের ১০ থেকে ১৫টি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের স্যান্ডেল আমদানি করে থাকে। যে সকল আমদানিকারকের নিজস্ব কারখানা রয়েছে তারা মূসক ৭ প্রদর্শনের মাধ্যমে শতকরা ৪ ভাগ ভ্যাট সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু যাদের নিজস্ব কারখানা নেই তাদের মূল শুল্ক শতকরা ৩০ ভাগের সাথে আরো ৪ ভাগ এটিভি (এডভান্স্ড ট্রেড ভ্যাট) দিতে হয়। এ সকল পণ্য আমদানিকারকদের কয়েকজনের কারখানা না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া কারখানা উল্লেখ করে ৪ ভাগ এটিভি সুবিধা নিয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় আমদানিকারক ভ্যাট সুবিধা গ্রহণের ফলে সরকার বিপুল শুল্ক হারাচ্ছে। কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্যান্ডেল আমদানিতে ওজনের ক্ষেত্রেও অনেক কারসাজি করা হয়ে থাকে। আমদানিকারক ও কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট অসাধু লোকজনের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে যে ওজনের স্যান্ডেলের তলা আমদানি কেরা হয় তার চেয়ে ওজন কম দেখিয়ে পণ্য ছাড় করা হয়। দেখা যায়, ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনারে ১৫ টনও ধরে আবার ভারি স্পঞ্জের ক্ষেত্রে ২০/৩০ টনও হয়ে থাকে। জানা যায়, ওজন কম-বেশি দেখিয়ে সরকারের বিশাল অংকের শুল্ক ফাঁকিও দেয়া হচ্ছে। জানা যায়, সম্প্রতি ওজায়েফ ফুটওয়্যার প্রসেসিং এন্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির নামে চায়না থেকে স্যান্ডেলের তলা ও ফিতা আমদানি করা হয়। নগরীর ৩৮৭ দারোগারহাট এলাকায় তার কারখানা রয়েছে বলে এটিভি সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমসে কাগজপত্র দাখিল করে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কাস্টমসের একজন সহকারী কমিশনার উক্ত ঠিকানায় কারখানা খুঁজতে গিয়ে কোন কারখানা পাননি। এমনকি কাস্টমস কর্মকর্তাকে যে স্থানে কারখানা ইতিপূর্বে ছিল বলে দেখানো হয়। কাস্টমস কর্মকর্তা উক্ত স্থানে ইতিপূর্বে কোন কারখানা থাকার অস্তিত্ব পাননি বলে জানান। এমনকি কাস্টমস কর্মকর্তা ওই স্থানের হোল্ডিং নাম্বার দেখতে পান ৮৭। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আবুল কাশেমের মালিকানাধীন ওজায়েফ ফুটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের স্যান্ডেল সামগ্রী আমদানি করা হয়। ইতিপূর্বে ৩৮৭নং দারোগারহাট এলাকায় কারখানা ছিল। বর্তমানে তা সরিয়ে অন্যত্র নেয়া হয়েছে। জানা যায়, ওজায়েফ ফুটওয়্যারের নামে তিন কন্টেইনার স্যান্ডেলের তলা ও ফিতা আমদানি করে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার (জেটি) মাহমুদুল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমদানিকারকের কারখানা রয়েছে কিনা পরীক্ষা করা হয়। ৩৮৭ দারোগারহাট এলাকার ঠিকানায় কারখানা না পাওয়ায় একটি কন্টেইনার আটক রাখা হয়েছে।