সাত বছরের ইয়াবা ব্যবসায় তিন ফ্ল্যাটের মালিক!

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ২২:১৮

পিনাকি দাসগুপ্ত

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টিক্কাপাড়ার হাজী চিনু মিয়া রোডের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম রিপন। একসময় এলাকায় ছোটখাট ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতো। ইয়াবার ব্যবসা করে এখন তিনটি ফ্ল্যাটের মালিক। ব্যাংকে জমা করেছেন মোটা অংকের টাকা। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী রিপন। গত বুধবার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের একটি টিম রিপন ও তার স্ত্রী রিপা আক্তারকে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৫০ পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির ১৪ লাখ ৫১০ টাকা, ২০টি বিভিন্ন ব্রান্ডের মোবাইল ফোন সেট ও একটি ব্যাংকের চেক। এ ঘটনায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিদর্শক আল মামুন বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন।

অভিযান পরিচালনাকারী ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (উত্তর) মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, রিপন মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। গত ৭/৮ বছর ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। জিজ্ঞাসাবাদে সে (রিপন) জানিয়েছে, তাকে কখনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হতে হয়নি। ইয়াবা ব্যবসাকে ‘নিরাপদ’ রাখতে গড়ে তোলে মাস্তান সিন্ডিকেট। আর এ সিন্ডিকেটের ভয়ে এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। গত এক বছর আগে সে রিপা আক্তারকে বিয়ে করে। স্বামী রিপনের হাত ধরে স্ত্রী রিপাও একসময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এ কর্মকর্তা বলেন, রিপন সিন্ডিকেট খুবই কৌশলী। তারা সবার কাছে ইয়াবা বিক্রি করতো না। যে কারণে ফাঁদ পেতেও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। মোহাম্মদপুর এলাকায় তার বিকাশ ও ফ্লেক্সি লোডের দোকান রয়েছে। এই দোকান থেকেই ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করতো রিপন। গ্রেফতার হওয়ার পর এলাকাবাসী আমাদের জানিয়েছে, রিপন চক্রের কারণে এলাকার অনেক বাসিন্দা এলাকা ছেড়েছেন। কারণ তাদের ভয় ছিল যদি তাদের সন্তানরা ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়ে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিপন জানিয়েছে, ইয়াবা সরাসরি টেকনাফ থেকে আনা হতো। আবার অনেক সময় বিভিন্ন পার্টির কাছ থেকেও তারা সংগ্রহ করত। রিপন দম্পতি আদালতের নির্দেশে কারাগারে রয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। যে ভবনে রিপন বসবাস করে ওই ভবনেই রিপনের রয়েছে ৩টি ফ্ল্যাট। একটি বেসরকারি ব্যাংকে রয়েছে রিপনের একাউন্ট। ওই ব্যাংকের চেকবই জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন জানানো হবে রিপনের ব্যাংক একাউন্টের ব্যাপারে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করার ও প্রস্তুতি রয়েছে।