পেস্টিসাইড বা বালাইনাশক মূলতঃ এক প্রকার বিষ যা ব্যবহূত হয় ফসলের পোকা-মাকড়, জীবাণু, আগাছা ও ইঁদুর মারার জন্য। বিভিন্ন প্রকার পেস্টিসাইডের মধ্যে রয়েছে ইনসেক্টিসাইড বা কীটনাশক, ফানজিসাইড বা ছত্রাকনাশক, উইডিসাইড বা আগাছানাশক, মাইটিসাইড বা মাকড়সানাশক এবং রোডেন্টিসাইড বা রোডেন্ট পেস্ট অর্থাত্ ইঁদুর মারার বিষ। সব ধরনের বালাই বা আপদ ফসল উত্পাদনে নানা রকম ক্ষতি করে থাকে। আর এ ক্ষতি মোকাবিলায় কৃষকরা বালাইনাশক বা পেস্টিসাইড ব্যবহার করে। উচ্চমূল্যের ফসলকে রক্ষা করার জন্য কৃষকদের বালাইনাশকের ইচ্ছেমত ব্যবহার ফসলকে রক্ষা করলেও একদিকে ফসলের উত্পাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে অন্যদিকে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার দীর্ঘদিন একই বালাইনাশক ব্যবহার করার ফলে দিন দিন ক্ষতিকর পোকা-মাকড় ও জীবাণু বালাইনাশক প্রতিরোধী হয়ে পড়ছে। তাই বালাইনাশক ব্যবহারে কিছু নিয়ম-কানুন ও সতর্কতা মেনে চলা উচিত। ভেজাল, অননুমোদিত বালাইনাশকের অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য কৃষকদের উত্সাহিত করা জরুরি।
বালাইনাশক ব্যবহারে সতর্কতা: ১. বালাইনাশক ব্যবহারের আগে বোতল বা প্যাকেটের গায়ের লেবেল ভাল করে পড়ুন এবং নির্দেশাবলী মেনে
চলুন। ২. বালাইনাশক ছিটানো, সেপ্র বা প্রয়োগ করার আগে সকল প্রকার নিরাপত্তামূলক পোশাক পরিধান করুন। ৩. নিরাপত্তামূলক পোশাক না পাওয়া গেলে সহজলভ্য জিনিস ব্যবহার করুন। যেমন জামা অথবা গেঞ্জি পরিধান করুন এবং গামছা দিয়ে হাত ও মুখমণ্ডল ঢেকে রাখুন। ৪. নজেল পরিষ্কার করতে মুখ লাগিয়ে ফুঁ দেবেন না; চিকন তার ব্যবহার করুন। ৫. বালাইনাশক ছিটানোর সময় ধূমপান বা পানাহার থেকে বিরত থাকুন। ৬. কখনোই বাতাসের বিপরীতে সেপ্র করবেন না। ৭. সেপ্র
করার সময় অবশ্যই টুপি ও ফেস শিল্ড ব্যবহার করুন। ৮. বালাইনাশক ব্যবহূত ক্ষেতে সাইনবোর্ড, লাল কাপড় বা বালাইনাশকের খালি পাত্র টাঙিয়ে দিন। ৯. জলাশয়ে বালাইনাশকের বোতল বা ব্যবহূত সেপ্রয়ার ধোবেন না। ১০. জলাশয় থেকে দূরে কোনো নিরাপদ স্থানে আপনার সেপ্রয়ার ও ব্যবহূত কাপড় ধুয়ে ফেলুন। ১১. ব্যবহূত বালাইনাশকের বোতল ও প্যাকেট ভেঙে ও ছিঁড়ে মাটির নিচে পুঁতে ফেলুন। ১২. ফুটো বা চুইয়ে পড়ে এমন ত্রুটিপূর্ণ সেপ্র মেশিন ব্যবহার করবেন না। ১৩. বালাইনাশকের বোতল বা পাত্রে অন্য কোনো জিনিস রাখবেন না। ১৪. বালাইনাশক ছিটানো জমির পানি যাতে মুক্ত জলাশয়ে না মিশে তা লক্ষ্য রাখুন। ১৫. বালাইনাশক প্রয়োগ করা জমিতে যেন হাঁস-মুরগি বা গবাদি পশু না প্রবেশ করে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। ১৬. বালাইনাশক প্রয়োগ করা জমির ফসল কমপক্ষে ২ থেকে ৭ দিন পর বাজারজাত করুন। ১৭. বালাইনাশক আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিত্সা দিন এবং ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। ১৮. বালাইনাশক খেয়ে ফেললে সাথে সাথে বমি করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন ও আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। ১৯. বালাইনাশক শিশুদের নাগালের বাইরে তালাচাবি দিয়ে রাখুন। ২০. মেয়াদত্তীর্ণ বালাইনাশক ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
লেখক:সহকারী অধ্যাপক
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
মাটি ও মানুষের কৃষিপাতায় লেখা পাঠাতে-
মাটি ও মানুষের কৃষিপাতা
হূদয়ে মাটি ও মানুষ
৪০, শহীদ তাজউদ্দিন সরণী,
চ্যানেল আই ভবন, তেজগাঁও, ঢাকা।
অথবা ই-মেইল করতে পারেন- সড়সশত্রংযর—মসধরষ.পড়স ফোন:০১৭১২৪৪২৪১০
