ক্রিস এভার্ট কে টপকে সবচেয়ে বেশি বছর বয়সে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করার রেকর্ডটি এখন সেরেনা উইলিয়ামসের। চলমান কাতার ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে গত শুক্রবার পেত্রা ভিতোভাকে ৩-৬, ৬-৩, ৭-৫ গেমে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পাশাপাশি র্যাঙ্কিংয়ের এক নাম্বার স্থানটিও পেয়ে গেছেন তিনি। সেরেনার বিশ্ব রেকর্ড গড়ার দিনে জয় পেয়েছেন র্যাঙ্কিংয়ে সদ্যই দ্বিতীয় স্থানে নেমে যাওয়া ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা এবং মারিয়া শারাপোভাও।
সেমিতে উঠলেই তিনি গড়বেন রেকর্ড। এই কারণেই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই সবার দৃষ্টি ছিল সেরেনার দিকে। আর এই আমেরিকানের রেকর্ড গড়ার পথে সর্বশেষ বাধা ছিলেন পেত্রা ভিতোভা। আর গত শুক্রবার দোহায় দু’জনের লড়াইটাও জমেছিল দারুণ। পেত্রার দারুণ সব সার্ভ আর ফোরহ্যান্ডের মুখে প্রথম সেটে অসহায়ই লাগছিল সেরেনাকে। তবে দ্বিতীয় সেটেই নিজের স্বভাবচরিত লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ম্যাচে ফিরে আসেন রেকর্ড ১৫ বারের গ্রান্ড স্ল্যাম শিরোপাধারি এই আমেরিকান। ৬-৩ গেমে এই সেটটি জেতার পরে তৃতীয় সেটেও তাকে পড়তে হয় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে। ৪-১ গেমে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিজের করে নেন। ম্যাচ জয়ের পরে সেরেনা বলেন, তার জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে সমর্থকরা। অনন্য এই অর্জনের পরে আবেগ সংবরণ করতে ব্যর্থ হওয়া এই তারকা সংবাদ সম্মেলনে বলেন,‘বর্তমানে আমি প্রায়ই বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। সবসময়ই কোর্টে আমি কাঁদি। কখনই চিন্তা করিনি আবারো এই স্থানে ফিরে আসতে পারব। যখন আমি একের পরে এক গেমে পরাজিত হচ্ছিলাম তখন আমি সমর্থকদের চিত্কার শুনেছি। তারা আমাকে দারুণভাবে সমর্থন করছিল। সবসময় আমি এরকম সমর্থন পাই না।”
গত সোমবার প্রকাশিত সর্বশেষ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা নিজের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছিলেন। তবে এখন দ্বিতীয় স্থানে নেমে যেতে হলেও আজারেঙ্কার সামনে এখনো সুযোগ রয়েছে এ সপ্তাহেই আবারো র্যাঙ্কিং শীর্ষে আরোহণ করার। তবে তার জন্য তাকে জিততে হবে কাতার ওপেনের শিরোপা। এ লক্ষ্যের দিকে ভালভাবেই ছুটছেন তিনি। শেষ আটের লড়াইয়ে ৬-২, ৬-২ গেমে তিনি হারিয়েছেন ফ্রান্সের সারা ইরানিকে।
১৯৭৫ সালে বিশ্ব টেনিসে র্যাঙ্কিং প্রথা চালু হবার পরে ৩১ বছর, ৪ মাস, ২৪ দিন বয়সে সবচেয়ে বেশি বয়সী মহিলা টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ স্থান পেলেন সেরেনা। ১৯৮৫ সালের ২৪ নভেম্বর সর্বশেষ এভার্ট ৩০ বছর, ১১ মাস, ৩ দিন বছর বয়সে শীর্ষ স্থান পেয়েছিলেন। ২০০২ সালের জুলাইতে প্রথমবারের মত সেরেনা বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়ের খেতাব জিতেছিলেন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পুনরায় এই স্থান ফিরে পান। প্রায় দুই বছর পরে এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মত তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পুনরায় শীর্ষ স্থানে ফিরে আসতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। দীর্ঘদিন পরে আমি আবারো এই স্থানে ফিরে এসেছি এবং এটা সত্যিকার অর্থেই দারুণ এক অনুভূতি। তবে এর জন্য আমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে এবং আমি এখানেই থামতে চাই না।’
ব্রিসবেনে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে সেরেনা ২০১৩ সাল শুরু করেছিলেন। কিন্তু বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ইনজুরির কারণে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই দুঃখজনকভাবে বিদায় নেন। তবে এই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি টুর্নামেন্ট হিসেবে পরিচিত ব্রিসবেনের জয়ের মাধ্যমে তিনি ক্যারিয়ারের ৪৭তম শিরোপা জয় করেন। ২০১২ সালে উইম্বলডন এবং ইউএস ওপেন জয়ের মাধ্যমে তিনি ক্যারিয়ারের রেকর্ড ১৫টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের কৃতিত্ব দেখান। এছাড়া লন্ডন অলিম্পিকের একক ও দ্বৈতে স্বর্ণপদক জয় করেন। ইস্তানবুলে বছরের শেষ ডব্লিউটিএ চ্যাম্পিয়নশীপের মাধ্যমে তিনি ২০১২ সাল শেষ করেন। ৫৮টি জয়ের বিপরীতে ৪টিতে পরাজয় নিয়ে তিনি রেকর্ড গড়েন গত বছর।
সেরেনার ইতিহাস গড়ার দিনে শেষ চারে পা রেখেছেন মারিয়া শারাপোভাও। ২০১১ সালের ইউএস ওপেন শিরোপাজয়ী সামান্থা স্টোসুরকে তিনি হারিয়েছেন ৬-২, ৬-৪ গেমে। তবে কাতারে নিজের তৃতীয় শিরোপাটা জেতা মোটেও সহজ হবে না এই রাশিয়ান গ্লামার কুইনের। কারণ সেমিতে তার প্রতিপক্ষ সেরেনা।
