কক্সবাজারে ঢিলেঢালা হরতাল

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৫
কক্সবাজারে ‘মাওলানা সাঈদী মুক্তি পরিষদ’র ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হচ্ছে। ৪৮ ঘণ্টার হরতালের প্রথমদিন গতকাল শনিবার শহরে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ও পিকেটিং হয়নি। তবে চকরিয়ায় পিকেটারদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২ পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ চলাকালে ৪ জন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এই হরতালের ডাক দেয় সংগঠনটি। এদিকে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৩টি মামলা করেছে। মামলায় জামায়াত ও শিবিরের সকল পর্যায়ের নেতাসহ মোট ৬ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং সন্ত্রাস দমন আইনে মামলাগুলো রুজু করা হয় বলে জানান কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন। এছাড়া শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে শহরের সংঘর্ষ কবলিত রুমালিয়ারছড়া এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা শনিবার সকালে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন। হরতালের প্রথমদিন গতকাল শহরে কোন জামায়াত-শিবির কর্মীকে রাস্তায় পিকেটিং করতে দেখা যায়নি। দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ ছিল, রিক্সা, টমটমসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলও ছিল কম। তবে শহরের অধিকাংশ দোকানপাট খোলা ছিল। সকালে শহরের রুমালিয়ারছড়া এলাকার খুরুশকুল রাস্তার মাথায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। চকরিয়া উপজেলা সদরের জালিয়াপাড়া চিরিংগা-বেতুয়া সড়কে একদল পিকেটার ব্যারিকেড দিলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পুলিশ ও পিকেটারদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এ সময় সুপম তালুকদার ও মনজুরুল ইসলাম নামে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। দুপুরে শহরে আওয়ামী লীগ ও বাম সংগঠনগুলো হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে। টানা হরতালের কারণে শুক্রবার কক্সবাজারে বেড়াতে আসা ২০ হাজারের বেশি পর্যটক রাতেই কক্সবাজার ছেড়ে যান। তবে আরো কয়েক হাজার পর্যটক আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছেন ‘ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টোয়াক বাংলাদেশ)’ সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জামায়াত-শিবির কর্মীদের সাথে সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে নিহত ৩ জনের লাশ গতকাল কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গ থেকে তাদের নিকটাত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জানাযা শেষে তাদের লাশ দাফন করা হয়। নিহতদের মধ্যে দোকান কর্মচারী আহমদ ছালেহর (৫০) লাশ তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছদাহা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানাযা শেষে সন্ধ্যায় তার লাশ দাফন করা হয়। এছাড়া নিহত তোফায়েলের (২২) জানাযা শহরের রুমালিয়ারছড়াস্থ হাশেমিয়া আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে এবং নূরুল হক (৪৫)-এর জানাযা কক্সবাজার সদরের ইসলাম বাজার সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে জামায়াতের দাবি অনুযায়ী অপর একজনের লাশের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার রাত থেকে জামায়াত-শিবিরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশি গ্রেফতারের ভয়ে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।