গণজাগরণের অন্যতম ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভনকে নৃশংসভাবে হত্যা করার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার তার জন্মস্থান গাজীপুরের কাপাসিয়া প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠেছে। সকাল থেকেই সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিবাদ, বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধের ফলে কাপাসিয়া আরেক শাহবাগে পরিণত হয়েছে।
সকালে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ছানাউল্লার নেতৃত্বে কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল এসে রাজীবের বাসার সামনে অবস্থান নেয়। পরে সকল মিছিল ঢাকা-কাপাসিয়া-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ফকির মজনু শাহ সেতুর পশ্চিম প্রান্তে রাজীবের বাসার সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে। ঘন্টাব্যাপী অবরোধের ফলে সড়কের উভয় পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল্লার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান মোল্লা, আমানত হোসেন খান, আনিছুর রহমান আরিফ, জামাল উদ্দীন প্রমুখ। বক্তারা অবরোধের স্থানটিকে রাজীব চত্বর ঘোষণা করে দুইদিনের কালোব্যাজ ধারণ, সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।
কাপাসিয়া বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা কালোপতাকা উত্তোলন, কালোব্যাজ ধারণ করেন। রাজীব হত্যার খবর জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি কাপাসিয়ায় সকল কর্মসূচি বাতিল করে রাজীবের ঢাকার বাসায় যান। রাজীবের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজ রবিবার সকালে রাজীবের লাশ কাপাসিয়ায় নিয়ে আসা হবে। বাদ জোহর কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে উপজেলার তরগাঁও ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
