প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কোন গণতান্ত্রিক দল নয়। জামায়াত যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন তা প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে জামায়াত-শিবিরের এদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। ঐ দলটিকে আর কোন ছাড় দেয়া হবে না। গতকাল শনিবার নিহত ব্লগার আহমেদ রাজীব দায়দারের পরিবারকে সমবেদনা ও সান্ত্বনা দিতে প্রধানমন্ত্রী মিরপুরের পলাশনগরে তাদের বাড়িতে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে ওরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে।’
মিরপুরের পলাশনগরে নিজের বাড়ির সামনে শুক্রবার রাতে খুন হন শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে আন্দোলনে সম্পৃক্ত ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার। দেশব্যাপী গণজাগরণে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতের নিষিদ্ধের দাবি ওঠার পরই ব্লগার রাজীব নৃশংসভাবে খুন হন। তার পরিবার ও সহযোদ্ধারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জামায়াত-শিবির জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন।
বিকালে প্রধানমন্ত্রী রাজীবের বাসায় যান এবং তার মা-বাবাকে সান্ত্বনা দেন। প্রধানমন্ত্রী ওই বাড়িতে পৌঁছলে এক হূদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহত রাজীবের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। এ সময় রাজীবের মাকে জড়িয়ে ধরে প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘স্বজন হারানোর ব্যথা আমি জানি।’ বিকাল পৌনে ৪টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত ওই বাসায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন। রাজীবকে শাহবাগ আন্দোলনের প্রথম ‘শহীদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি অনেকদিন ধরেই এরকম একটা খারাপ খবরের আশঙ্কা করছিলাম। তাই ঘটে গেল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শাহবাগের এই তরুণ প্রজন্ম নবজাগরণের উন্মেষ ঘটিয়েছে। যারা রাজীব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তারা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। প্রধানমন্ত্রী রাজীব হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি রাজীবের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
ফ্লাইওভারের ভিত্তি প্রস্তর
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের জাগরণ দেখে আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশ দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। শেখ হাসিনা আবারও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রতয় ব্যক্ত করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকারানুযায়ী ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার অবশ্যই সম্পন্ন হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইও্রভারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্ম, বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরাসহ গোটা জাতি আজ স্বাধীনতার বিরোধী শক্তির অশুভ তত্পরতা প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি মানুষের জীবন ছিনিয়ে নিতে পারে কিন্তু তারা জনগণের অন্তর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিনিয়ে নিতে পারবে না।
এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, রাশেদ খান মেনন ও আব্দুল্লাহ বির-নাসির আল বুশাইরি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। অনুষ্ঠন শেষে নিহত ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
