ভেনিজুয়েলা নিয়ে মস্কো ওয়াশিংটন ‘বাকযুদ্ধ’

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ২২:৪৭

ভেনিজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে উত্খাতের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদো। গুয়াইদোকে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সরাসরি মাদুরোকে সরে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু মাদুরো তার অবস্থানে অনড়। গুয়াইদোর নেতৃত্বে বড় ধরনের বিক্ষোভ চলছে দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ সারা দেশে। এমন পরিস্থিতিতে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে ওয়াশিংটন ও রাশিয়া। কারণ, রাশিয়ার অবস্থান মাদুরোর পক্ষে।

গত সোমবার মধ্যরাতে গুয়াইদো একদল সেনা সদস্যের মাঝে দাঁড়িয়ে মাদুরোকে উত্খাতের চুড়ান্ত ঘোষণা দেন। ধারণা করা হয়েছিল গোটা বাহিনী গুয়াইদোর পাশে দাঁড়িয়েছে। পরদিন থেকেই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মাদুরো সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ হয়। এদিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছিলেন, তার কাছে তথ্য আছে যে মাদুরো শিগগিরই পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তার দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে মাদুরো এখনো ক্ষমতায় টিকে আছেন। পম্পেও অভিযোগ করেছেন, মাদুরো অবশ্যই দেশত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাশিয়া তাকে বাধা দিয়ে ক্ষমতায় ‘ঝুলে’ থাকতে উত্সাহ দিয়েছে। ফলে দেশটি ভয়াবহ বিপর্যয়কর পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। যেকোন খারাপ পরিস্থিতির জন্য রাশিয়াকে তার দায় নিতে হবে বলে পম্পেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের তাত্ক্ষণিক কড়া জবাব দিয়েছে রাশিয়া। তার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা একে ‘মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বরং ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনীকে বিভক্ত করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। একারণে সেনাবাহিনীর একটি পক্ষকে পাশে পেয়েছেন গুয়াইদো। সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাতকারে জাখারোভা আরো বলেন, ভেনিজুয়েলার বৈধ সরকারকে অন্যায়ভাবে উত্খাত করতে ‘তথ্যযুদ্ধ’ চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। একারণে বানোয়াট মন্তব্য করতেও তারা দ্বিধা করছে না। মাদুরোর দেশত্যাগ সম্পর্কে পম্পেও’র বক্তব্যকে তিনি এ ধরনেরই একটি কাজ বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, ভেনিজুয়েলার ব্যাপারে আমেরিকা যে নীতি গ্রহণ করেছে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সামিল। তাদের এই অবস্থান দেশটিকে শোচনীয় অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন নিয়ে গুয়াইদো এক জনসভায় নিজেকে ভেনিজুয়েলার অন্তর্বতী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। তার এ ঘোষণার পর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চরম আকার ধারণ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরো সরকারকে উত্খাতের জন্য ভেনিজুয়েলার ওপর অর্থনৈতিক চাপ জোরদার করেন এবং একাধিকবার দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন। কিন্তু তারপরেও কোনো কাজ না হওয়ায় দৃশ্যত বিরক্ত ওয়াশিংটন।

এদিকে, ভেনিজুয়েলা নিয়ে এই বাকযুদ্ধের মধ্যে আগামী সপ্তাহে ফিনল্যান্ডে বৈঠক করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। বৈঠক আয়োজনের কথা সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন মস্কোর এক সিনিয়র কূটনীতিক।