শরীরটাকে সুস্থ আর চনমনে রাখতে হলে একটু আধটু শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। আর তাই বাসা বাড়িতে, পার্কে কিংবা শরীরচর্চা কেন্দ্রে প্রায়ই নানা বয়সের ছেলে মেয়েকে ব্যয়াম করতে দেখা যায়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন আপনার শরীরের জন্য আসলে কোন ধরনের ব্যায়াম সবচেয়ে উপযোগী? আপনি কি পার্কে হালকা একটু হেঁটেই ব্যায়ামের কাজটি সারবেন না কি রীতিমতো ঘাম ঝড়াবেন শরীরচর্চার নানা উপকরণের সাথে? মজার বিষয় হলো, ঠিক কোন ধরনের ব্যায়াম শরীরের জন্য ভালো তা নিয়ে নানা মত আছে শরীরচর্চাবিদদের মাঝেও। আর এ প্রেক্ষাপটে, নেদারল্যান্ডের ম্যাস্ট্রিক্ট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক কিন্তু বেছে নিয়েছেন হাঁটার মতো হালকা ব্যায়ামকেই। তাদের দাবি, জিম বা ব্যায়ামাগারে গিয়ে কিংবা বাড়িতে সরঞ্জাম নিয়ে অনেকে কঠোর ব্যায়াম করার চাইতে নিয়মিত হাঁটাই উত্তম। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় হাঁটার পাশাপাশি অন্যান্য হালকা ব্যায়ামও বেশ উপকারী এবং এতে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা এবং লিপিড লেবেল ঠিক থাকে যা ডায়াবেটিস ও স্থূলতারোধে খুব কার্যকরী। এ ধরনের সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে হল্যান্ডের মাস্ট্রিক্ট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ১৯ থেকে ২৪ বছর বয়সী ১৮ জনকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা করেন। তারা এই ১৮ জনকে তিনটি দলে ভাগ করে প্রথম দলের সদস্যদের ১৪ ঘণ্টা বিশ্রামে রাখেন। দ্বিতীয় দলের সদস্যদের এর চাইতে এক ঘণ্টা কম বিশ্রাম দিয়ে সে সময়ে কঠোর পরিশ্রমের ব্যায়াম করানো হয়। অন্যদিকে তৃতীয় দলের সদস্যদের ছয় ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়, চার ঘণ্টা হাঁটতে দেওয়া হয় এবং বাকী দুই ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর ফলাফল বিশে¬ষণ করে দেখা যায় যে এদের সবারই সমান শক্তি ক্ষয় হয়েছে। তবে যারা দীর্ঘ সময় হালকা ব্যায়াম করেছেন অর্থাত্ তৃতীয় দলের সদস্যদের ইনসুলিন ও লিপিড লেবেলের উন্নতি হয়েছে অন্য দুই দলের সদস্যদের তুলনায় অনেক বেশি। এ প্রসঙ্গে গবেষক দলের প্রধান হ্যানস সেলেভবার্গ বলেন, দিনে এক ঘণ্টা কঠোর ব্যায়াম করে বাকি সময় অলসভাবে কাটালে শরীরের যতোটা না উপকার হয় তার চাইতে দীর্ঘ সময় হালকা পরিশ্রম করলে তাতে ভালো ফল পাওয়া যায়।
