বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও যে পিছিয়ে নেই তার যথার্থতা প্রমাণ করতে ইন্টারন্যাশনাল দৈনিক ‘ফরচুন ম্যাগাজিন’ আমেরিকার শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা পঞ্চাশজন নারীকে নিয়ে একটি খসড়া তৈরি করেছেন। যাদের মধ্যে আরসুলা বার্নস, মেলেনি হেলে, এ্যানি সিন্যে, ম্যাগ উইটম্যান অন্যতম।
আরসুলা বার্নস
৫৪ বছর বয়সী আরসুলা বার্নস বর্তমানে জেরক্স-এর চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ব্যবসা জগতে বার্নস কঠোরহস্তে অনুলিপিকার স্রষ্টা হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ বছর জেরক্সের অর্জিত ছয় শতাংশ বাড়তি লভ্যাংশ ইতালীয় কাস্টমার কেয়ার ও এ্যাক্স এল ওয়ার্ল্ডের সাথে সংযুক্ত করেন বার্নস। এছাড়া বার্নসের ইউরোপের সাথে চুক্তির ফলে, ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে জেরক্সের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। তার সফল নেতৃত্বের কারণে জেরক্স প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জন করে শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ১৯৮০ সালে বার্নস জেরক্সে যোগদান করে একটি যান্ত্রিক প্রকৌশলে গ্রীষ্মকালীন অন্তরীণ হিসেবে কাজ করে প্রতিষ্ঠানকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যান। ২০০৯ সালে বার্নস জেরক্সের সিইও নিযুক্ত হন এবং বর্তমানে তিনি ১৬০-এরও বেশি দেশ জুড়ে অসংখ্য ক্লাইনসহ প্রায় ১৪০,০০০ লোকের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
মেলেনি হেলি
মেলেনি হেলি ১৯৬১ সালের ৫ এপ্রিল ব্রাজিলের রিও ডি জানিরোতে জন্মগ্রহণ করেন। ক্ষমতাসীন বণিক নারী হিসেবে হেলি ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি উত্তর আমেরিকার প্রক্টর এবং গ্যাম্বেলরের গ্রুপ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে হেলির তত্ত্বাবধানে ৩৯ শতাংশ রাজস্ব অর্জিত হয়, যার আনুমানিক আয় ৩২.৬ মিলিয়ন ডলার। হেলির মতে, বিশ্বের ১১০টি দেশে তাদের প্রায় ১৪,০০০ কর্মচারী ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। হেলির প্রথম কর্মজীবনের শুরু ব্রাজিলে, তিনি জনসন এ্যান্ড সন্সের সহকারী ব্রান্ড ম্যানেজার হিসেবে সর্বপ্রথম যোগদান করেন। ১৯৮৭ সালে জনসন এ্যান্ড জনসন এ মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি শিশুদের বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী, পানি শোষক তুলা, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষাকারী প্রসাধনী সামগ্রী সরবরাহ করতেন। ২০০৮ সালে হেলি বাকার্ডি লিমিটেডের ডিরেক্টরি বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। ইউনিভার্সিটি অফ রিচমন্ড’র ডিরেক্টর বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন ২০০৯ সালে।
এ্যানি সিন্যে
এ্যানি সিন্যে বর্তমানে ডিজনি মিডিয়া নিটওয়ার্কের সহ-সভাপতি এবং ডিজনি এবিসি টেলিভিশন গ্রুপের প্রেসিডেন্ট। সিন্যের আওতাধীন বিভাগসমূহ, ডিজনি চ্যানেল, এবিসি পরিবার এবং আরও বাড়তি সহযোগী মিডিয়া পার্টনার প্রায় ১৮.৭ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করেছে, যা ডিজনির মোট বিক্রয়ের অর্ধেক পরিমাণ। ২০০৫ সালে সিন্যে যখন ডিজিটাল যুগের শিল্পের নেতৃত্বে ছিলেন তখন ডিজনে এবং এবিসি টেলিভিশন গ্রুপ, মিডিয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে স্থান দখল করে নতুন প্লাটফর্মে পদার্পণ করেন। এই গ্রুপটি ছিল প্রথম লিভারেজ আইটিউনস, যেটি প্রথমে একটি বিজ্ঞাপন সমর্থিত পূর্ণ এপিসোড প্লেয়ার অনলাইনে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে প্রথম বিজয়ী এ পর্যায়ে একটি মাত্র আবেদন করতে পারবেন। সিন্যের নেতৃত্বাধীন ঐতিহ্যগত বিভাগ এবং উঠতি বন্টন প্ল্যাটফর্মের কৌশলগত ব্যবহারের মাধ্যমে সারাবিশ্বের লাখ লাখ মানুষের শত শত আকর্ষণীয় খবর এবং বিনোদন দেখার অভিজ্ঞতা প্রদানের সঙ্গে উচ্চমানের ধারণক্ষমতাকে একত্রিত করে থাকে।
