‘ক্র্যাশ-প্রুফ’ কম্পিউটার উদ্ভাবন করল বিজ্ঞানীরা

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৬
কম্পিউটার যারা ব্যবহার করে থাকেন, তাদের কাছে ক্র্যাশ শব্দটা নতুন কিছু নয়। অনেকেরই হয়ত নিজের কম্পিউটারটি ক্র্যাশ করেনি, তবে বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিত কারও কম্পিউটার ক্র্যাশ করার খবর পাননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মূলত কম্পিউটারের শুরু থেকেই কম্পিউটার ক্র্যাশের যাত্রাও শুরু। তবে এতদিনে এসে হয়ত সেই ‘ক্র্যাশ’ যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। কম্পিউটার ক্র্যাশ করলে তাই পর্দায় যে ‘ব্লু স্ক্রিন’ ফুটে ওঠে, তারও হয়ত সময় হয়েছে ফ্লপি বা এই ধরনের আরও অনেক কিছুর মতোই বিদায় নেওয়ার। যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী গবেষক সম্প্রতি এই ‘ক্র্যাশ-প্রুফ’ কম্পিউটারের কথা জানিয়েছেন সকলকে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তারা এমন এক ধরনের কম্পিউটার তৈরি করছেন, যে কম্পিউটার কখনও ক্র্যাশ করবে না। ইউনিভার্সিটি কলেজ ইন লন্ডনের (ইউসিএল) একদল গবেষক এটি নিয়ে কাজ করছেন। আর তাদের উদ্ভাবিত কম্পিউটারের নাম তারা দিয়েছেন ‘সিসটেমেটিক কম্পিউটার’। বিভিন্ন প্রোগ্রামের নির্দেশনাগুলো একটি কম্পিউটার যেভাবে বাস্তবায়ন করে থাকে, সেই পদ্ধতির মধ্যেই রয়েছে কম্পিউটার ক্র্যাশ করার মূল কারণ। এমনটাই জানিয়েছেন ‘সিসটেমেটিক কম্পিউটার’-এর গবেষক দল। তারা জানিয়েছেন, কোনো কম্পিউটার কাজ করার সময় একটি সময়ে একটি কাজই করে থাকে এবং সেটি করে থাকে একটি নির্দিষ্ট ক্রম অনুসারে। এই ক্রম অনুসরণের সময়ে ক্রমকে ব্যাহত করলেই কম্পিউটার কাজ করতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলে এবং কম্পিউটার ক্র্যাশ করে। কম্পিউটারের কাজের এই ধরন প্রাকৃতিক পদ্ধতির অনুরূপ নয় বলেই দাবী বিজ্ঞানীদের। এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী পিটার বেন্টলে জানান, প্রাকৃতিক বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যেও ভুল হয়ে থাকে কিন্তু এই ভুলকেও শুধরে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে প্রকৃতির মধ্যেই। আর এ কারণেই অনেক বায়োলজিক্যাল সিস্টেম নিজেদের নিজেরাই সুস্থ করে তুলতে সক্ষম হয়। কম্পিউটারেও এই পদ্ধতি সংযুক্ত করা গেলে আর কম্পিউটার ক্র্যাশ করবে না বলেই জানান তিনি। তিনি জানান, তারা এমন ধরনের কম্পিউটার উদ্ভাবন করেছেন, যেটি আর দশটা কম্পিউটারের মতো নয়। এই কম্পিউটারে রয়েছে একাধিক সিস্টেমের সমষ্টি, যাতে করে কোনো নির্দেশনা একটি সিস্টেম সমাপ্ত করতে না পারলে কম্পিউটার অচল হয়ে যায় না। বরং অন্য একটি সিস্টেম সেটিকে সম্পন্ন করে কম্পিউটারের পূর্ণ কর্মক্ষমতা বজায় রাখে। এর প্রতিটি সিস্টেমেরই নিজস্ব পৃথক পৃথক মেমোরি এবং স্টোরেজ থাকবে। ফলে সিস্টেমগুলো হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আগামী এপ্রিলে সিঙ্গাপুরের একটি কনফারেন্সে এর বিস্তারিত তুলে ধরবেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।