চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে লোকজন সরাতে অভিযান

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ২২:৫২

ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাত মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, জেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, রেড ক্রিসেন্ট, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ, সকল বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুত্, গ্যাসসহ সকল প্রতিষ্ঠানে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে চট্টগ্রামের আকাশে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের বিস্তার ঘটতে শুরু করে। তবে দিনের বেশিরভাগ সময় ছিল  রোদ্রোজ্জ্বল। বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে মহানগরীসহ চট্টগ্রামের নানাস্থানে ইলশেগুঁড়ি ধরনের হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। সন্ধ্যার আগে আকাশ কালো মেঘে প্রায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। উত্তাল হয়ে উঠে সাগর।

চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়গুলোতে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য শুক্রবারও দিনভর মাইকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালায় জেলা প্রশাসন। সেই সঙ্গে পাহাড় থেকে সরে যেতে অনিচ্ছুক বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের নজরদারি টিম। অভিযানকালে তারা পাহাড়ের শতাধিক ঘরবাড়ির বিদ্যুত্ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ফণী’র আঘাত মোকাবিলায় চট্টগ্রাাম জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রেখেছে ২ হাজার ৭৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র। বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরের সকল জেটি থেকে জাহাজ সরিয়ে বহির্নোঙরে সেগুলোর ইঞ্জিন চালু রেখে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়। সমুদ্র বন্দরে ৬ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি থাকায় এই ব্যবস্থা নেয়া হয়।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সরোয়ার-ই-জাহান ইত্তেফাককে জানান, গতকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিমানবন্দরে স্বাভাবিক নিয়মে বিভিন্ন ফ্লাইট উঠানামা করে। তবে বিমানবন্দরের বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি, মেশিন, গাড়ি সকাল থেকেই নগরীর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে জানান চসিকের গণযোগাযোগ শাখা। এছাড়া উপকূলীয় উপজেলা সীতাকুন্ডু, সন্দ্বীপ, মিরসরাই, আনোয়ারা, বাঁশখালিসহ অন্যান্য এলাকায় মাইকিং, জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনাসহ ব্যাপক তত্পরতা সারাদিন অব্যাহত ছিল বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম খান অসি।