গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরু

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৬
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক গোলাম আযমের পক্ষে নির্দিষ্ট তালিকার বাইরে নতুন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের একটি আবেদন খারিজের পর যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল রবিবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই আবেদন খারিজ করে যুক্তি উপস্থাপনের আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু মামলা সংক্রান্ত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন। পরে তার অসমাপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম। যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। যদিও আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মামলার কার্যক্রম মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি রাখার আহবান জানান। গতকাল সকালে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমের শুরুতে তিনটি আবেদনের কথা তুলে ধরেন গোলাম আযমের অপর আইনজীবী তাজুল ইসলাম। আবেদনগুলোর মধ্যে ছিল- তালিকার বাইরে নতুন সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের অনুমতি, গোলাম আযমের জামিন ও তার পক্ষে দুইজন বিদেশি সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পদক্ষেপ। তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মোট ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি দিতে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি পেয়েছিলাম। কিন্তু সাক্ষীদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাই তারা ট্রাইব্যুনালে আসার সাহস দেখাচ্ছেন না। এ জন্য এই ১২ জনের বাইরে নতুন তালিকা দেয়ার জন্য আমরা সময় চেয়েছিলাম। আমরা তিনজন সাক্ষী এনেও রেখেছিলাম। কিন্তু সে আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে এবং যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, এ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযমের পক্ষে ন্যাটোর একজন সাবেক জেনারেলসহ প্রায় তিন হাজার সাক্ষীর তালিকা জমা দিয়েছিলো রাষ্ট্রপক্ষ। এছাড়া দুই বিদেশি সাক্ষী যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর উইলিয়াম শাবাজ ও ন্যাটোর সাবেক কমান্ডার জেনারেল স্যার জ্যাক ডেভারেলের সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয়ে আমরা আবেদনে বলেছি, তাদের কোর্টে আসার জন্য অনুমতি দেয়া হোক। অন্যথায় তাদের বক্তব্য ভিডিও লিংকের মাধ্যমে গ্রহণ করা হোক। এটাও সম্ভব না হলে তাদের বিশেষজ্ঞ মত সাক্ষ্য হিসাবে নেয়া হোক। অন্যটি হলো গোলাম আযমের জামিন আবেদন। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। জাতিসংঘের আরবিট্ররি কমিটির মতামতসহ আমরা এ বিষয়ে আবেদন করেছি। এ দুটি আবেদন ট্রাইব্যুনাল পরে শুনবে বলেছে। রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু ও জেয়াদ আল মালুম। জেয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপক্ষে উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে ’৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তি, ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬৬র ৬-দফা ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, আসামিপক্ষের নতুন সাক্ষীর তালিকা সংক্রান্ত আবেদন না-মঞ্জুর হয়েছে। এছাড়া বিদেশি সাক্ষীদের মতামত সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণের যে আবেদন তারা করেছেন আইনে তার সুযোগ নেই। মামলার কার্যক্রম মুলতবি করার আগে উভয়পক্ষের উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনাল বলে, ৬১টি চার্জের মধ্যে কোন্ চার্জের কি সাক্ষ্য ও দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করবেন তা লিখিত আকারে আমাদেরকে দেবেন। এছাড়া ল’পয়েন্টে আপনারা যেসব যুক্তি উপস্থাপন করবেন তাও লিখিত দিলে আমরা তা গ্রহণ করব। রাষ্ট্রপক্ষের ২০তম সাক্ষীকে জেরা করলেন সালাহউদ্দিন কাদের বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি গতকাল যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রাষ্ট্রপক্ষের ২০তম সাক্ষী চট্টগ্রামের শেখ মোরশেদ আনোয়ারকে নিজেই জেরা করেন। জেরা শেষে মামলার কার্যক্রম আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এদিন রাষ্ট্রপক্ষের পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এই সাক্ষী জবানবন্দি পেশ করেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের দেখিয়ে দিয়েছিলেন বলেই পাকিস্তানি আর্মি তার বাবা ও ভাইকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যায়। ড. জিয়াউদ্দিনকে ব্যাখ্যা দিতে আরো সময় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের পদত্যাগী বিচারপতি নিজামুল হকের সঙ্গে কথিত স্কাইপে কথোপকথনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে প্রবাসী আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিনকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। গতকাল বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেয়।