রংপুরে গতকাল রবিবার এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে একটি কেন্দ্রে দেরিতে প্রশ্নপত্র বিতরণ ও নির্ধারিত সময়ের আগেই উত্তরপত্র নেয়া এবং পরীক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ৪টি কক্ষ ভাংচুর করা ও সহকারী কেন্দ্র সচিবকে ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ কমর রাখে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ ঘটনায় কেন্দ্রের ৭ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে নগরীর সমাজকল্যাণ বিদ্যাবীথি স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসক তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
গতকাল সকাল ১০টায় সমাজকল্যাণ বিদ্যাবীথি স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে পদার্থবিদ্যা বিষয়ের রচনামূলক পরীক্ষা শুরু হয়। এই কেন্দ্রে রংপুর জেলা স্কুল, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজ এবং আল মদিনা স্কুলের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। দুপুর ১২টায় রচনামূলক পরীক্ষা শেষে ১২.১০ মিনিটে ৩৫ মিনিট স্থায়ী নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ৭টি কক্ষের ৬শ’ ১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২.২০ মিনিটে নৈব্যক্তিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। আবার ১২.৪০ মিনিটে উত্তরপত্র নেয়া হয়। এর প্রতিবাদ করলে ১১১ নম্বর কক্ষের পরিদর্শক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী ৩ পরীক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করলে, লাথি মেরে কক্ষ থেকে বের করে দেন। বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ৪টি কক্ষের টেবিল-বেঞ্চ ভাংচুর করে অভিভাবকরা সহকারী কেন্দ্র সচিবকে দুপুর ১টা থেকে ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে ৭ কক্ষ পরিদর্শককে প্রত্যাহার করা হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরীক্ষার্থী তাসরিমা, আঁখি, মৌসুমী, মোশিদুল মোমিন, সাজ্জাদ, তামিম, সাহিদ, রিফাতসহ অন্যরা অভিযোগ করেন, পরীক্ষার শুরু থেকেই জিলা স্কুলের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছেন সমাজকল্যাণের শিক্ষকরা। বিষয়টি কেন্দ্র সচিব, জেলা প্রশাসক ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সমাজকল্যাণ বিদ্যাবিথী স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সহকারি কেন্দ্র সচিব মর্জিনা খাতুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব কেন্দ্র সচিবের। কেন্দ্র সচিব ও রংপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কোহিনুর বেগম বলেন, অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও জেলা পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ফরিদ আহাম্মদ বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নুরুজ্জামানকে তদন্ত করে রাতেই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
