জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে আর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে কোটি কণ্ঠে উচ্চারিত হলো অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবি। সারাদেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একযোগে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানালেন। দাবি জানালেন জামায়াত-শিবিরের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসাবে গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও একযোগে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া শুরু হয়। প্রজন্ম চত্বরের এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন এ আন্দোলনের সক্রিয় নেতা ইমরান এইচ সরকার। এদিকে দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের পীঠস্থান অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন।
রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদী তারুণ্যের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে নিজেদের শান্তিপূর্ণ বলিষ্ঠ অবস্থানের কথা জানালেন বিশ্বকে। প্রজন্ম চত্বরের পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে দেশের ৮০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩২ হাজার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকাল ১০টায় জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এ কর্মসূচি থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার গণজাগরণের সক্রিয় কর্মী ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারের খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। সেইসঙ্গে আজ সোমবার জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল প্রতিহত করারও আহ্বান জানান তারা। আর রাজীবের মৃত্যুতে আজ সোমবার কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি নেয়া হয় প্রজন্ম চত্বর থেকে।
১০টা বাজার আগেই সুশৃঙ্খলভাবে উঠে দাঁড়ান শাহবাগে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ। ঘড়ির কাঁটা দশটা বাজতেই শুরু হয় ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’ শাহবাগ আন্দোলন দেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মনে করিয়ে দিতে চাইলেন কত রক্তের বিনিময়ে এই পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত অর্জিত হয়েছে। মনে করিয়ে দিতে চাইলেন আমাদের আত্মমর্যাদা, সম্ভ্রম ও অস্তিত্বের প্রতীক এই পতাকা ও সঙ্গীতের সম্মান রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াতে ইসলামীসহ সকল ধর্মভিত্তিক দল নিশ্চিহ্ন করতে হবে।
দৃষ্টি পতাকায় মুখে জাতীয় সঙ্গীত
উপস্থিত সকলে গাইছেন জাতীয় সঙ্গীত। সবার চোখ জাতীয় পতাকায় নিবদ্ধ। কারো এক হাত নিজের বুকে। কারো হাতে ক্ষুদ্রাকৃতির পতাকা। কেউবা মুষ্টিবদ্ধ হাত আকাশপানে উঁচিয়ে ধরেছেন। প্রায় সবার হাতেই কালোব্যাজ। কেউ আবার শনিবার বুকে লাগানো কালো ব্যাজ গতকালও ধারণ করে রেখেছেন।
গতকাল সকাল ১০টায় শাহবাগে প্রজন্ম চত্বরের চিত্র ছিল এমনই। উপস্থিত জনতার সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত যেন চলমান আন্দোলনে আরো একবার দেশপ্রেমের অনুরণন ঘটিয়ে গেলো। পতাকার দিকে তাকিয়ে উপস্থিত জনতা যেন স্মরণ করলেন নিহত ব্লগার রাজীবকে। পতাকার লাল-সবুজ রঙে তারা যেন রাজাকারমুক্ত-অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রেরণা পথ খুঁজে পেয়েছেন। শাহবাগে আসা বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এক্ষেত্রে উপস্থিত অন্যদের চেয়ে কয়েকগুণ এগিয়ে রইলেন। প্রজন্ম চত্বরের মূল মঞ্চের জাতীয় সঙ্গীত থেমে গেলেও দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা নিয়মিত বিরতিতে গাইলেন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি...’।
প্রজন্ম চত্বরের সাথে সুর মিলিয়েছেন দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জাতীয় সঙ্গীতের সুরে আরো একবার এক বন্ধনে গেঁথে গেলো সারা বাংলাদেশ।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে সকাল ১০টায় প্রজন্ম চত্বরের মূল মঞ্চে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার। এ সময় জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি হোসাইন আহমেদ তফছির, ব্লগার মাহমুদুল হক মুন্সিসহ আন্দোলনের সংগঠক ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাবিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত
শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের সাথে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমবেত কণ্ঠে গেয়েছেন জাতীয় সঙ্গীত। গতকাল সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখতে তরুণরা যে অঙ্গীকার করেছে, তার প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। প্রজন্ম চত্বরের তরুণদের কর্মসূচির প্রতি দেশের সাধারণ মানুষ যে সংহতি প্রকাশ করেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কর্মসূচি তারই ধারাবাহিকতার অংশ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ, কবি জসীমউদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ।
‘রাজীব আমাদের শক্তি’
‘রক্ত রক্তের কথা বলে, আপনার শরীরে কার রক্ত? মুক্তিযোদ্ধার নাকি রাজাকারের?’ প্রজন্ম চত্বরে রাজীবের জন্য রাখা শোকবইতে এমনি জিজ্ঞাসা মিরনের। তিনি লিখেছেন, রাজীব আমাদের পথ দেখিয়ে গিয়েছে, আমরা কি জুজুর ভয়ে ঘরে বসে থাকবো নাকি এবার বাইরে এসে মুক্তির পথে ঐক্যবদ্ধ হবো।
রাজিবকে ‘এই প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ’ অভিহিত করে শোকবইতে হানিফ লিখেছেন, রাজিব তোমার রক্ত, শপথ করালো শক্ত। এই শপথ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি না হওয়া অটুট থাকবে।
কিশোরগঞ্জের বেলায়েত লিখেছেন, সীমাবদ্ধতায় বেঁধে ফেলো তাদের যারা ধর্মের নামে ভাওতাবাজি করে অধিষ্ঠিত হতে চায় ক্ষমতার মসনদে। এরা কখনো জয়ী হয় না, কারণ তারা ধর্মকে ব্যবহার করে কিন্তু প্রকৃত ধার্মিক এরা নন!
সোহেল লিখেছেন, ৭১’ পর্ব প্রজন্ম আমাদের একটা মানচিত্র দিয়েছিল। আজ সময় এসেছে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি রাজাকারমুক্ত দেশ উপহার দেয়ার। কারণ দেশ রাজাকারমুক্ত না হলে আমাদের পেছনেই পড়ে থাকতে হবে। গতকাল আবারও রাজিবকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে আন্দোলনকারীরা। ব্লগার নজরুল ইসলাম বলেন, রাজিবের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না।
বৃষ্টির মধ্যেও শ্লোগানে মুখর প্রজন্ম চত্বর
গতকাল মেঘলা আবহাওয়ার মাঝে বৃষ্টি সামান্যতম ব্যাঘাতও ঘটাতে পারেনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকারীদের। বৃষ্টিতে ভিজেই তারা শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর করে তোলে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর। প্রতিদিনের মতো গতকালও সকাল থেকেই বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ও দল বেঁধে অংশ নেয় আন্দোলনে। সময় গড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ।
গতকাল দিনের শুরুতে ‘রাজীবের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘লাল সবুজের পতাকায়, রাজীব তোমায় দেখা যায়’, ‘রক্তে ভেজা পতাকায়, রাজীব তোমায় দেখা যায়’ শ্লোগানে প্রজন্ম চত্বরে এক অন্যরকম আবেগের সৃষ্টি হয়। বাড়তে থাকে শ্লোগানের মাত্রা। ‘একাত্তরের রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, বাঙ্গালীর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘প্রীতিলতার বাংলায়, সূর্যসেনের বাংলায়, শহীদ জননীর বাংলায়, রাজাকারের ঠাঁই নেই’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘সাম্প্রদায়িকতার আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, ‘আর কোনো দাবি নাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই’।
হরতাল প্রতিহত করার আহবান
আজ জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল প্রতিহত করতে সবাইকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে দাবিতে ঐক্যবদ্ধ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের একজন ফরিদ আহমেদ বলেন, কোন শঙ্কা, ভয় আমাদের আটকাতে পারবে না। তিনি জামায়াত-শিবিরের ডাকা হরতাল প্রতিহত করার আহবান জানিয়ে বলেন, কোনভাবেই যুদ্ধাপরাধীরা যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে। সেদিকে আমাদের তীক্ষ নজর রাখতে হবে। সব জায়গায় জামায়াতকে বর্জন করতে হবে। আন্দোলনের আয়োজক ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, দেশদ্রোহী, রাজাকাররা কোনভাবেই ছাড় পেতে পারে না। ইতিমধ্যে আমাদের আন্দোলনে কিছু বিজয় অর্জিত হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচারের পাশাপাশি আমরা জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানাই।
সংহতি-উপস্থিতি অব্যাহত
শাহবাগে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে উপস্থিতি অব্যাহত রেখেছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ ও প্রতিষ্ঠান। গতকাল সকালে আন্দোলনে পূর্ণসমর্থন জানিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত। বিকালে ভারতে অধ্যয়নরত এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী প্রজন্ম চত্বরে এসে বলেন, এ আন্দোলন শুধু বাংলাদেশ নয় গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রাজাকারদের ফাঁসি দিতে হবে। রাজীবের খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা আগামীর বাংলাদেশকে নতুন রূপ দিবে। দেশপ্রেমিক তরুণরা আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবে। সংহতি জানিয়ে প্রজন্ম চত্বরে আসে ঢাকা বিশ্ববদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ, মত্স্য বিজ্ঞান বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ, ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগ, সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী ইউনিভার্সিটি কলেজ, দনিয়া কলেজ ইউনিভার্সিটি, তেজগাঁও মডেল হাইস্কুল, চাঁদপুরের মুক্তধারা সংগঠন, কমলাপুর স্কুল এন্ড কলেজ, ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী আব্দুল আউয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, ন্যাশনাল ব্যাংক, সিকদার মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা পাবলিক কলেজ, সিটি কলেজ, গ্রীন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ, আমেরিকান বাংলাদেশ কমিউনিটি ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন শিক্ষা-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
আবু তালেব উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গতকাল রবিবার মিরপুর ১০নং সেকশনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শহীদ আবুু তালেব উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় নারী নেত্রী শিরিন আকতার, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সারোয়ার আলম, সখিনা বেগম, মকবুল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, খলিলুর রহমান, আব্দুর জাব্বার ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এসএম শহীদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ৬ দফার অনুবাদক ও বিশ্লেষক ছিলেন আবু তালেব। দেশের জন্য তার অবদান জাতি চিরদিন মনে রাখবে।
‘প্রথম বিজয়ে উল্লাস’
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) ২০১৩ বিল সংসদে পাস হওয়াকে গণজাগরণের প্রথম কিংবা প্রাথমিক বিজয় বলে অভিহিত করেছেন আন্দোলনরতরা। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে বাদী ও বিবাদীর জন্য আপিলের সমান সুযোগ এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী সকল সংগঠনের বিচারের বিধান রেখে বিলটি পাস হওয়ায় স্বাগত জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। গতকাল সন্ধ্যায় শাহবাগে বিলটি পাস হওয়ার সংবাদ এসে পৌঁছলে হাততালি ও শ্লোগানে স্বাগত জানান আন্দোলনরতরা। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি হোসাইন আহমদ তফছির বলেন, শাহবাগে চলমান আন্দোলনের এটা প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিজয়। আমরা ছয় দফা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। এগুলো পূরণ হলেই অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র এবং ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহবায়ক ইমরান এইচ সরকার বলেন, এটি আমাদের প্রাথমিক বিজয়। চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না। বিলটি পাস করায় সরকারকে অভিনন্দন।
প্রজন্ম চত্বরে সংসদ প্রতিনিধিরা
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) ২০১৩ বিল সংসদে পাস হওয়ার সংবাদ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় শাহবাগে আসেন সংসদের একটি প্রতিনিধিদল। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নায়ক তোফায়েল আহমেদ এমপি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন এমপি, সাবের হোসেন চৌধুরী, নাঈম রাজ্জাক এমপি, ফজলে হোসেন বাদশা এমপিসহ সংসদের একটি প্রতিনিধিদল আন্দোলনরতদের সংবাদটি জানান। তারা আন্দোলনের দাবির সাথে সংহতি জানান। হাত তালি দিয়ে তাদেরকে স্বাগত জানান উপস্থিত জনতা। এ সময় তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, আমরা ১৯৬৯ দেখেছি। একাত্তরে জয়ী হয়েছি। এটি নতুন মুক্তিযুদ্ধ। এবারও আমরা, আমাদের তরুণরা জয়ী হবে। তরুণরা যে আন্দোলন শুরু করেছে তার সাথে আমি একাত্মতা প্রকাশ করছি।
