বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে এখন সংকট চলছে। দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা নস্যাত্ করতে সরকার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করছে। চলমান এই সংকট থেকে উত্তরণের একটিই পথ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়া। সরকার যেন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়, সেজন্য দুর্বার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চায়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আগামী দিনে সরকার গঠন করতে পারলে সকল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে এবং দুঃশাসন ও সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদে গতকাল রবিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিএনপির মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি যেকোনো মূল্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন। সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে, তারাই প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে এবং তাদের লোকজনই তদন্ত করেছে। সেই ট্রাইব্যুনালের রায় জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। অর্থাত্ জনগণ এই সরকারকেই প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই এ সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো নৈতিক অধিকার নেই। তাদের উচিত তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে এখনই পদত্যাগ করা। তা না করলে জনগণ তাদের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করবে।
ফখরুল বলেন, সরকার গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা ধ্বংসে যে ষড়যন্ত্র করছে তা নস্যাত্ করে দিতে তরুণ সমাজসহ দেশের জনগণকে আজ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের শপথ নিতে হবে। জনগণ জেগে উঠেছে। গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্ত রোধে জনতার ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে বিজয় অনিবার্য। বর্তমান সরকারকে সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো নৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নেই। কারণ তারা জনগণকে দেয়া ওয়াদা রক্ষা করতে পারেনি, বরং দেশের সব মৌলিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। তারা শেয়ারবাজার লুট করেছে, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে, ডেসটিনি-হলমার্ক-কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট চালিয়েছে। সরকার নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি, বিশ্বজিত্ হত্যার বিচার করেনি। ১৪০ জন গার্মেন্টস কর্মী পুড়ে মারা গেছে, গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এসব ব্যর্থতা ঢাকতেই সরকার এখন ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে।
ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। শাহবাগে প্রজন্মের আন্দোলনকে মাথায় রেখে সমাবেশে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকেও বক্তব্য দিতে দেয়া হয়। সভাপতির বক্তব্যে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, কয়েকজনের ফাঁসি হলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন হয়ে যায় না। তরুণ প্রজন্মের উচিত দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষার আন্দোলন করা।
