বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়ায় সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশীদের কাছে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গতকাল রবিবার বিকালে সালমান খুরশীদ খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনে সাক্ষাত্ করতে গেলে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বৈঠকে বেগম জিয়া ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ভারত কথা দিয়েছিলো সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। এখনো বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হচ্ছে। জবাবে সালমান খুরশীদ বলেন, আমরা হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। সালমান খুরশীদ বিরোধী দলীয় নেতাকে আবারো ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে তার শুভেচ্ছা জানান।
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আশাকরি, সরকার ও বিরোধী দল আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি জানান, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে সালমান খুরশীদ বিরোধী দলীয় নেতার বাসভবনে পৌঁছলে বিএনপির সহ-সভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী তাকে অভ্যর্থনা জানান। এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই নেতা খোলামেলা আলোচনা করেন। সাক্ষাতের সময়ে রিয়াজ রহমান, শমসের মবিন চৌধুরী, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতের পর শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করেন খুরশীদ। ভারত থেকে ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য চোরাচালান বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বেগম জিয়া। ভুটান থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে সালমান খুরশীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ভুটানের রাজার সঙ্গে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে আলোচনার বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বিরোধী দলীয় নেতা। শমসের মবিন বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা মার্চে অনুষ্ঠেয় বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেসকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। কাউন্সিলে কংগ্রেস ও বিজেপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
