পরিপূর্ণ বিচার নিশ্চিত করতে স্থায়ী ট্রাইব্যুনাল চাই :শাহরিয়ার কবির

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:১৮
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কার্যকরী সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের আংশিক বিচার চাই না। পরিপূর্ণ বিচার চাই। ৩০ লাখ শহীদ পরিবারের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আইন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে স্থায়ী করতে হবে। সরকার পরিবর্তন হলেও এ আদালত যেন তার কাজ স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি সংবিধানের ৪৯ ধারায় দণ্ড বাতিলের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাকে রহিত করতে হবে। তিনি গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। মতবিনিময়কালে শাহরিয়ার কবির বলেন, ট্রাইব্যুনালকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিতে হবে। সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে ক্যান্টনমেন্টে এ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করে সেখানে সাক্ষীদের রাখতে হবে। কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সম্পর্কে শাহরিয়ার কবির বলেন, বিচারক, আইনজীবী ও প্রসিকিউটররা হত্যার বিচার করেছেন। গণহত্যার বিচার করেননি। যে কারণে যাবজ্জীবনের রায় এসেছে। সাক্ষ্য প্রমাণে আলবদরের প্রধান হিসাবে কাদের মোল্লা প্রমাণিত হয়েছেন। যুদ্ধাপরাধ আইনে আলবদরের প্রধান প্রমাণিত হলে তার মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। ন্যুরেমবার্গে ৭টি নাত্সী সংগঠনের বিচার করা হয়েছিল। নাত্সী পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের পাশাপাশি সংগঠন হিসাবে জামায়াতে ইসলামীরও বিচার করতে হবে। আর এ কাজটি করে ৩০ লাখ শহীদ পরিবারের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, শুধু ১০ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার করলে চলবে না। জেলা থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের যুদ্ধাপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধু বিচার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। ৭৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দালাল আইন বাতিল করে দণ্ডিতদের ছেড়ে দেয়া হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ সম্পন্ন করা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা। আর সেই ওয়াদা পূরণ করতে না পারলে ২০১৪ সালে ১৮ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার যে স্বপ্ন দেখছে তা দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। মতবিনিময়কালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মকবুল হোসেন মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মো: জাকির হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ। এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধী কাদের মোল্লাসহ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে এবং ব্লগার রাজীব হত্যার প্রতিবাদে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ঘোষিত কর্মসূচি খুলনায় পালিত হয়েছে। খুলনার শিববাড়ী মোড়স্থ নির্দলীয় গণমঞ্চ থেকে ঘোষিত ৫ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টার খুলনা অচল কর্মসূচি প্রজন্ম ’৭১সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও পালিত হয়েছে।