বর্তমান বিশ্বে ধর্ম-বর্ণ বৈষম্যের বিরোধী, মানবিক নেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন বাগদান সেরেছেন। দীর্ঘদিনের সঙ্গী ক্লার্ক গেফোর্ডের সঙ্গেই বাগদান সম্পন্ন করেছেন এবং তাঁকেই বিয়ে করতে চলেছেন আরডার্ন। নেভ তে আরোহা নামে জাসিন্ডা ও গেফোর্ড যুগলের একটি সন্তান রয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিবিসির এক খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
৩৮ বছর বয়সী জাসিন্ডা আরডার্ন নিউজিল্যান্ডের সর্ব কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। আর জাসিন্ডার প্রেমিক গেফোর্ড একটি টিভি অনুষ্ঠানের সঞ্চালক। গতকাল শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে আরডার্নের বাম হাতের মধ্যম আঙুলে একটি ডায়ামন্ড রিং দেখা যায়। এরপরই তাঁর বাগদানের খবর চাউর হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বাগদানের খবরটি নিশ্চিত করেন। তাঁর মুখপাত্র অ্যান্ড্রু ক্যাম্পবেল জানান, ইস্টারের ছুটির সময়ে তাঁরা বিয়ে করতে সম্মত হন এবং বাগদান করেন। তবে বিয়ের তারিখ ও কে কাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন সে বিষয়ে কিছু জানাননি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০১২ সালের একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো আরডার্ন ও গেফোর্ডের মধ্যে সাক্ষাত্ হয়। এরপর থেকেই প্রেম। গত বছরের ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী পদে থেকেই একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন আরডার্ন। বিশ্বের ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রীর মতো পদে থেকে মা হওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা এটি। পরে সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সম্মেলনে শিশুসহ যোগ দেন তিনি। সন্তানের জন্মের পর থেকে টিভিতে ফিশিং শোর উপস্থাপক গেফোর্ড মেয়ে নেভেকে দেখভালের কাজ করছেন।
গত ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে মুসলমানদের ওপর বন্দুকধারীর হামলার পর জাসিন্ডার ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। হামলার পরপরই তিনি একে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন। হামলায় হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মাথায় হিজাব পরতেও দেখা গেছে তাকে।
