রূপকড়চা

সেনসেটিভ ত্বকের জন্য

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:০৮
‘আদর্শ ত্বক’ হবে পরিষ্কার, দাগহীন, সতেজ, টান টান, নমনীয় ও মসৃণ। ভাবছেন এত কিছু একসাথে পাওয়া সম্ভব নয়। কেননা আপনার ত্বক অনেক বেশি সেনসেটিভ। এই সেনসেটিভ ত্বকে সব কিছুই মানিয়ে যাবে তা হয়তো না। এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে আপনি কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সঠিক ময়েশ্চারাইজার হতে পারেন আপনার নিত্য সঙ্গী। ময়েশ্চারাইজার মূলত তেল ও পানির বিশেষ মিশ্রণ। এর কাজ ত্বক আর্দ্র রাখা। তা ছাড়া মেকআপের আগে ফাউন্ডেশন লাগানোর জন্য ময়েশ্চারাইজার ত্বককে পরিণত করে মসৃণ ক্যানভাসে। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। অনেকে মনে করেন, ময়েশ্চারাইজার কেবল শীতকালেই ব্যবহার করা উচিত। ত্বককে সুস্থ ও লাবণ্যময় রাখার জন্য ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন বছরের প্রতিটি দিনই। কারণ, শুষ্কতা রোধ করার পাশাপাশি অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানেরও জোগান দেয় ময়েশ্চারাইজার। কেউ কেউ আবার মনে করেন, তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের দরকার নেই, এ কথাও ঠিক নয়। ময়েশ্চারাইজার সবার জন্য সবসময় প্রয়োজন। তবে সেটা নির্ধারণ করতে হবে ত্বক বুঝে। শুষ্ক ত্বকের জন্য এক ধরনের আর সেনসেটিভ বা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য আরেক ধরনের ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে হবে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার  স্বাভাবিক ত্বকের জন্য ওয়াটার বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। ওয়াটার বেসড ময়েশ্চারাইজারে সামান্য পরিমাণে তেল থাকে।  শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম বেজড ময়েশ্চারাইজার উপযোগী। গ্লিসারিন, ল্যাক্টিড অ্যাসিড রয়েছে এই ধরনের ময়েশ্চারাইজারও ব্যবহার করা যেতে পারে।  তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে অনেকেই সমস্যায় ভোগেন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ব্যবহার করুন অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার। এই ধরনের ময়েশ্চারাইজার ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্যও খুব উপযোগী। অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজারে ভেজিটেবল অয়েল, অ্যানিম্যাল ফ্যাট ইত্যাদি থাকে না।  যাদের ত্বক মিশ্র বৈশিষ্ট্যের তারা ব্যবহার করুন লাইট, হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার। দিনে দু’বার এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।  সেনসেটিভ ত্বকের জন্য ভিটামিন-এ, সি এবং ই, জিঙ্ক এবং গ্রিনটি যুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এই ধরনের ত্বকের জন্য সুগন্ধবিহীন ময়েশ্চারাইজারই আদর্শ। ময়েশ্চারাইজিং টিপস  গোসলের পর ত্বকে ভেজা ভাব থাকতে থাকতে তেল বা ক্রিম লাগানোর অভ্যাস করুন। প্রতিদিন সকালে ও রাতে দু’বার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বকে অতিরিক্ত ময়েশ্চার বজায় থাকে।  ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পর সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন। বাইরে বেরোনোর অন্তত ১৫ মিনিট আগে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।  ক্লিনজিং টোনিংয়ের পর ময়েশ্চারাইজিং অবশ্যই করা উচিত। হাতের তালুতে নিয়ে সম্পূর্ণ মুখে ময়েশ্চারাইজার লাগান। হাত ও পায়ের জন্য ময়েশ্চারাইজার  গোলাপের পাঁপড়ি, ঈষদুষ্ণ পানি, আমন্ড অয়েল, রোজ অয়েল ভিটামিন ই অয়েল, কোকোয়া বাটার মিশিয়ে হালকা আঁচে গরম করুন। ঠাণ্ডা করে এয়ারটাইট জারে রেখে দিন। প্রতিদিন রাতে হাত ও পায়ে ম্যাসাজ করুন। উষ্ণ গরম পানিতে আধ চামচ নারিকেল তেল সামান্য লবণ দিয়ে হাত-পা ডুবিয়ে রাখুন ৫ মিনিট। তারপর দুধের সর, আটা, গ্লিসারিন একসঙ্গে মিশিয়ে ১৫ মিনিট হাতে ও পায়ে লাগিয়ে রেখে হালকা হাতে ঘষে তুলে দিন। ধুয়ে ফেলে মধু, ডিমের হলুদ অংশ, আমন্ড বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে আধঘণ্টা লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। অলিভ অয়েল ও গোলাপজল মিশিয়ে লাগিয়ে রাখুন। ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার  রোদে পোড়া ত্বকের জন্য তিলের তেল খুবই উপকারী ময়েশ্চারাইজার। তিলের তেল ন্যাচারাল সানব্লকার। সাধারণত শুষ্ক ত্বকে বলিরেখা পড়ে। সেই কারণে এই ত্বকের বিশেষ প্রয়োজন। ঘি ও আমন্ড অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে বলিরেখার উপর ম্যাসাজ করুন প্রতিদিন আধঘণ্টা। তারপর আমন্ড বাটা, আমলাবাটা, মধু একসঙ্গে মিশিয়ে বলিরেখার উপর লাগিয়ে আধঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের টানটান ভাব নষ্ট হয়ে গেলে হালকা হাতে আমন্ড অয়েল দিয়ে আপ লিফটিং পদ্ধতিতে ২০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। মুখ মুছে ডিমের সাদা অংশ, মুলতানি মাটি, আঙুর একসঙ্গে মিশিয়ে এই প্যাক মুখে লাগিয়ে রাখুন ২৫ মিনিট। তারপর মুখ ধুয়ে শসার রস ও গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ময়েশ্চারাইজার মাস্ক  ২ চামচ দুধের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। মুখ ও গলায় ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ১ টেবিল চামচ ভেজিটেবল অয়েল ও ১ টেবিল চামচ নারিকেলে তেলের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ ক্রাশড স্ট্রবেরি মিশিয়ে নিন। সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ভিটামিন ই অয়েল মেশান, গলায় ও মুখে ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর ধুয়ে ফেলুন।  গ্লিসারিন, গোলাপজল, লেবুর রস সমপরিমাণে নিয়ে মিশিয়ে ফ্রিজে রাখুন। গরমে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজে দিবে। ময়েশ্চারাইজিংয়ের প্রযোজনীয়তা  ময়েশ্চার ত্বকে পানি ও তেলের ভারসাম্য বজায় রাখে।  আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের ফলে ত্বকের ময়েশ্চার নষ্ট হয়ে যায়। তাই ত্বকের যত্নে ময়েশ্চার খুবই জরুরি।  ওয়াটার ইন অয়েল ময়েশ্চারাইজার সাধারণত অয়েলবেজড হয়। এই ধরনের ময়েশ্চারাইজার ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখে।  অয়েল ইন ওয়াটার ময়েশ্চারাইজার সাধারণত গ্লিসারিনের কাজ করে। এই ময়েশ্চার ত্বকের গভীরে ঢুকে ময়েশ্চার ধরে রাখে। ঘরে তৈরি ময়েশ্চারাইজার  স্বাভাবিক ত্বকে মধু, লেবুর রস, দই মিশিয়ে লাগান। ত্বকের উজ্জ্বল ও মসৃণভাব বজায় থাকবে।  তৈলাক্ত ত্বকে আপেল কোরার সঙ্গে মধু মিশিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  শুষ্ক ত্বকে অলিভ অয়েল, লেবুর রস ও ডিম মিশিয়ে ১৫ মিনিট ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মডেল মাশিয়াত ও স্বর্ণ