করলা খেতে কিছুটা তিতা হলেও এর উপকারিতা অনেক। আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় নিজের সুস্থতার জন্য করলার মতো সবজি খাদ্য তালিকায় রাখা জরুরি। করলার খাদ্যগুণ এখানে দেওয়া হলো—
খাবার তালিকায় তিতা রয়েছে শুনলে পরিবারের অনেক সদস্যের মুখটা অন্ধকার হয়ে যায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে টক, ঝাল, মিষ্টির মতো খাবার তালিকায় তিতা রাখাও দরকার। বিশেষ করে করলা শরীরে পক্ষে খুবই ভালো। করলার তিতাভাব কমানের জন্য রান্না করার আগে কিছুক্ষণ লবণ-পানিতে রাখতে পারেন। করলার উপকারিতা জানলে এই তিতা সবজি খেতে কেউ বিরক্ত হবেন না। করলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। এতে যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। যা চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং চোখের নানা সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। করলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়াম। যা দাঁত ও হাড় ভালো রাখে। এতে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন সি। যা ত্বক ও চুল ভালো রাখে। এ ছাড়া করলায় রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, জিঙ্ক, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। এবার বুঝুন তিতা স্বাদের এই সবজি খাওয়া কতটা জরুরি। শুধু করলা নয়, এর পাতার রসও খুবই উপকারী। করলা পাতার রস রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তোলে। নানা ধরনের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এনার্জি ও স্ট্যামিনা বাড়িয়ে তুলতেও করলা পাতার রস সাহায্য করে। অতিরিক্ত অ্যালকোহলে পানের অভ্যাস থেকে লিভার ড্যামেজ হলে করলা পাতার রস দারুণ কাজ দেয়। এই রস শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। কলেরা বা ডায়রিয়ার প্রথম পর্যায়ে করলা পাতার রস খেতে শুরু করলে ভালো। এই তিতা সবজি পাতার রস, লেবুর রস ও পেঁয়াজের রস মিশিয়ে খেলে উপকার হয়। ব্লাড ডিজঅর্ডারের সমস্যায় লেবুর রস ও করলা পাতার রস মিশিয়ে খেতে পারেন। এই পাতার রস মধুর সাথে খেলে অ্যাজমা ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো সমস্যা কমতে সাহায্য করে। আবার করলার পাতার রস ফাংগাল ইনফেকশন প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
