স্টাইলশপ

দেশীদশের নতুন যাত্রা

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:১৩
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে দেশীয় তাঁতশিল্প ও কারুশিল্পে নতুন করে প্রাণ প্রবাহ লক্ষ করা যায়। এই প্রবাহকে আরও জাগিয়ে দিতে দেশীয় পোশাকের স্বনামধন্য দশটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল ‘দেশীদশ’। তাদের তৃতীয় অভিযাত্রার পথচলা শুরু উপলক্ষে গুলশানে তাদের নতুন শোরুমে হয়ে গেল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের তাঁতি ও কারুশিল্পীদের নিয়ে নিবিষ্টভাবে কাজে নিয়জিত এমন দশটি প্রতিষ্ঠান রাজধানী ঢাকায় সম্মিলিতভাবে দেশীদশ নামে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি এখন তাদের তৃতীয় অভিযাত্রা শুরু করেছে। আর তাই দেশীয় পোশাকের অন্যতম এই প্রতিষ্ঠানটির নতুন দেশীদশ চত্বর ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র, ছবি তুলেছেন দীপংকর দীপু দেশের অন্যতম প্রধান দশটি ফ্যাশন হাউসকে এক ছাদে নিয়ে আসার এই কর্নারটি এখন বেশ জমজমাট। আগতদের প্রত্যেকেই দশটি ফ্যাশন হাউসেই চোখ বুলিয়ে কিনে নিচ্ছেন পছন্দের পোশাকটি। নিপুণ, কে ক্র্যাফট, রঙ, সাদাকালো, দেশাল, প্রর্বতনা, অঞ্জন’স, বাংলার মেলা, বিবিআনা ও নগরদোলার আউটেলেট নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘দেশীদশ’। কেমন চলছে দেশীদশের কেনাবেচা—এ প্রশ্নের জবাবে রঙ-এর এক বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘বাচ্চা ও বড়দের দুই ধরনের পোশাকই রয়েছে। সম্পূর্ণ দেশি তাঁতের ওপর লোকজ ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে এবারের কালেকশন সাজানো হয়েছে।’ আর এখন একুশের বেশ প্রাধান্য রয়েছে সেটা পুরোটা ঘুরলেই বোঝা যায়। বলতেই হবে বসুন্ধরার তুলনায় এখানকার সাজটা কোনো অংশে কম হয়নি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইন্টেরিয়র মুগ্ধ করছে আগত ক্রেতাদের। দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। মেয়েদের ফতুয়া ৫০০ থেকে ৯০০, ছেলেদের পাঞ্জাবি ৫৫০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে কিনতে পারবেন ক্রেতারা। অপরদিকে, বাচ্চাদের সালোয়ার-কামিজের দাম পড়বে ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৫০ এবং ফ্রক মিলবে ২১০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে। বাহারি সব পোশাক নিয়ে সাজানো হয়েছে রঙ-এর কালেকশন। বাচ্চাদের পোশাকেও রয়েছে ব্যাপক সম্ভার। ছেলে বাচ্চাদের পাঞ্জাবি ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০, ফতুয়া ৩০০ থেকে ৮০০ এবং শার্ট ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এখানে। মেয়ে বাচ্চাদের সালোয়ার-কামিজ ৬০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, স্কার্ট-টপস ৪০০ থেকে ৮০০, ফ্রক ৪০০ থেকে ৭০০ এবং লেহেঙ্গা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। চিকেন স্টিচ, হাতের কাজ, ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট ও এমব্রয়ডারি দিয়ে সাজানো হয়েছে বড়দের সালোয়ার-কামিজ। জলসিল্ক, অ্যান্ডি সিল্ক, অ্যান্ডি কটন, সিল্ক, কয়েল ও দেশি তাঁতের বিভিন্ন মাধ্যমের কাপড় দিয়ে তৈরি হয়েছে পোশাকগুলো। কে ক্র্যাফটের সালোয়ার-কামিজের দাম পড়বে ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। রয়েছে নারীর প্রিয় শাড়িও। মসলিন, অ্যান্ডি সিল্ক, হাফসিল্ক ও সফট সিল্ক কাপড়ের ওপর স্ক্রিন প্রিন্ট, চিকেন স্টিচ ও ব্লকের ডিজাইন দিয়ে সাজানো হয়েছে শাড়ি। নানা বয়সের ও নানা আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে এসব শাড়ির দাম পড়বে ৬০০ থেকে বিশ হাজার টাকার মধ্যে। শর্ট ও লং দুই ধরনের পাঞ্জাবিই পাওয়া যাচ্ছে এখানে। ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে কেনা যাবে হরেক রঙ আর ডিজাইনের পাঞ্জাবি। অ্যান্ডি সিল্ক, কটন ও সিল্কের মধ্যে কারচুপি, স্ক্রিন প্রিন্ট ও হাতের কাজ দিয়ে সাজানো হয়েছে এসব পাঞ্জাবি। আসছে বসন্তে এ একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে দেশীদশের নতুন শাখা ভালোই জমজমাট থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখানে পোশাক ছাড়াও মিলবে নানা ধরনের নিত্যব্যবহার্য পণ্য, গিফট আইটেম, বাসার সাজসজ্জা ও নৈমিত্তিক কাজের জিনিস। দামেও আপত্তি থাকার কথা নয় বলেই মনে করেন উদ্যোক্তারা। এমনিতে কাপড় ও আনুষঙ্গিকতার দাম বেড়ে যাওয়ায় পোশাকেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে মধ্যবিত্তের নাগালেই থাকবে এর সব পণ্য, জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। উল্লেখ্য, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যায় জর্জরিত হয়েও আমাদের বাংলাদেশের তাঁত ও কারুশিল্প আজও নিজস্ব অস্তিত্ব বজায় রেখেছে। এ তাঁত ও কারুশিল্প নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফ্যাশন হাউস। বাংলাদেশের ঐতিহ্য ধরে রাখার লক্ষ্যে ১০টি ফ্যাশন হাউস একসঙ্গে কাজ করার একটি উদ্যোগ নেয়। ফলে ২০০৯ সালে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে যাত্রা শুরু দেশীদশের। ক্রেতার চাহিদা, দেশীয় পোশাক ও কাপড়ের সমাহারের কারণে ২০১০-এ আরও একটি দ্বার উন্মোচিত হয় চট্টগ্রামে। বলা যায়, দেশীদশের জনপ্রিয়তার কাল তখন থেকেই। মধ্যবিত্ত নাগরিকদের মন জয় করতে বেশি সময় তাদের লাগেনি। একই সঙ্গে বিকশিত হয়েছে দেশীয় কাপড় ও নকশার বিপণনও। এদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন এলাকার তাঁতিরাও নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারছেন। এ নতুন শাখায় নিজেদের সম্প্রসারণের মাধ্যমে এসব বুননশিল্পীদেরও একধাপ উত্তরণ ঘটবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।